প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার নির্বাহী আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে বিচার বিভাগের (Department of Justice) পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ২৫ দিন সময় ছিল। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।
গত ৯ জুলাই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আমি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করব। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে এটি আমেরিকার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সর্বশেষ ১৯৫৬ সালে Reid v. Covert মামলায় কোনো রায় পুনর্বিবেচনার জন্য শুনানি গ্রহণ করেছিল।
এদিকে, আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন না করে ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগকে আইনে পরিণত করার চেষ্টা শুরু করেছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ তার মতামতে উল্লেখ করেছিলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি সংবিধানবিরোধী নয়, তবে বর্তমান আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করা সম্ভব নয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জন ম্যাকগুয়ার একটি বিল উত্থাপন করেন। এতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর ৩০১(এ) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির আইনি এখতিয়ারের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যক্তি জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।
প্রস্তাবিত বিলে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যোগ্যতার শর্তেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, গত ১৩ জুলাই রিপাবলিকান সিনেটর জিম ব্যাংকস ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে আইনে রূপ দিতে পৃথক একটি বিল উত্থাপন করেন।
এক বিবৃতিতে ব্যাংকস বলেন, “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর নজিরবিহীন আঘাত। দেশকে রক্ষায় আমাদের সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ‘সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট’ উত্থাপন করেছি, যাতে এই রায়ের প্রভাব মোকাবিলা করা যায় এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের সন্তানদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা যায়।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম