বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। অন্যদিকে কার্নি বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতগুলো সবচেয়ে ভালো শর্ত পাবে এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমবে।
বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এর আগে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন তিনি।
চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল পণ্যের ওপর শুল্কের বিষয়টি চুক্তিতে থাকতে পারে।
‘আমরা চুক্তির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী’
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৪৫ মিনিটের বৈঠকের পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিতে ‘খুবই সন্তুষ্ট’।
তিনি বলেন, কানাডার সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরক্তি বা মতবিরোধ ছিল, প্রস্তাবিত চুক্তি সেগুলোর কিছু সমাধান করবে।
গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি শুধু মার্কিন শ্রমিক, কর্মসংস্থান ও সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেবে না, বরং পুরো উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
চুক্তির বিস্তারিত শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কানাডা মার্কিন কৃষকদের ওপর আরোপ করা শুল্ক তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে কোন কোন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রও কানাডার ওপর আরোপ করা কিছু শুল্ক কমাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুটা’ কমানো হবে।
গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক কমতে পারে
কানাডা দীর্ঘদিন ধরে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দিক বা তুলে নিক।
প্রস্তাবিত চুক্তি শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে।
এ ছাড়া কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে বলেও মার্কিন ও কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন প্রদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার অগ্রগতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল বিক্রির পথ খুলতে পারে কানাডা
কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর নোভা স্কশিয়ার প্রিমিয়ার টিম হিউস্টন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রদেশগুলোকে কানাডার বাজারে আবার মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত বছর কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
হিউস্টন বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল। তবে বাজারে আবার মার্কিন অ্যালকোহল পাওয়া গেলে কানাডীয়রা সেটি কিনবেন কি না, সেটি আলাদা বিষয়।
দুগ্ধ খাতে ছাড় দেবে না কানাডা
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছে আরও কিছু ছাড় চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাড়ির ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক তুলে নেওয়া এবং মার্কিন চিজ উৎপাদকদের জন্য কানাডার বাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা।
তবে কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ বলেছেন, দেশের দুগ্ধ খাতের ‘সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা পুরোপুরি বহাল থাকবে।
এই ব্যবস্থার আওতায় দুধ, ডিম ও মুরগির উৎপাদন, মূল্য এবং আমদানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
চুক্তি নিয়ে কানাডীয়দের মতভেদ
জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ছাড় দিলে কানাডার বেশিরভাগ মানুষ এতে সন্তুষ্ট হবেন না।
জরিপকারী প্রতিষ্ঠান লেজারের এক জরিপে ৫৬ শতাংশ কানাডীয় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কানাডার কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।
তবে দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পক্ষে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে শুল্ক বাড়ানো হলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কানাডার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ডেনিস ডারবি বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি খুব কাছাকাছি চলে এসেছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি এ অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসায়ী মহলের আশা, নতুন চুক্তিটি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থায় ফেরার প্রথম ধাপ হবে। এর ফলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে আগের মতো অধিকাংশ পণ্য শুল্ক ছাড়াই বাণিজ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। অন্যদিকে কার্নি বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতগুলো সবচেয়ে ভালো শর্ত পাবে এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমবে।
বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এর আগে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন তিনি।
চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল পণ্যের ওপর শুল্কের বিষয়টি চুক্তিতে থাকতে পারে।
‘আমরা চুক্তির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী’
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৪৫ মিনিটের বৈঠকের পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিতে ‘খুবই সন্তুষ্ট’।
তিনি বলেন, কানাডার সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরক্তি বা মতবিরোধ ছিল, প্রস্তাবিত চুক্তি সেগুলোর কিছু সমাধান করবে।
গ্রিয়ার বলেন, এই চুক্তি শুধু মার্কিন শ্রমিক, কর্মসংস্থান ও সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেবে না, বরং পুরো উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
চুক্তির বিস্তারিত শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কানাডা মার্কিন কৃষকদের ওপর আরোপ করা শুল্ক তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে কোন কোন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রও কানাডার ওপর আরোপ করা কিছু শুল্ক কমাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুটা’ কমানো হবে।
গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক কমতে পারে
কানাডা দীর্ঘদিন ধরে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দিক বা তুলে নিক।
প্রস্তাবিত চুক্তি শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে।
এ ছাড়া কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে বলেও মার্কিন ও কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন প্রদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার অগ্রগতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল বিক্রির পথ খুলতে পারে কানাডা
কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর নোভা স্কশিয়ার প্রিমিয়ার টিম হিউস্টন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রদেশগুলোকে কানাডার বাজারে আবার মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত বছর কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
হিউস্টন বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল। তবে বাজারে আবার মার্কিন অ্যালকোহল পাওয়া গেলে কানাডীয়রা সেটি কিনবেন কি না, সেটি আলাদা বিষয়।
দুগ্ধ খাতে ছাড় দেবে না কানাডা
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছে আরও কিছু ছাড় চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাড়ির ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক তুলে নেওয়া এবং মার্কিন চিজ উৎপাদকদের জন্য কানাডার বাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা।
তবে কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ বলেছেন, দেশের দুগ্ধ খাতের ‘সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা পুরোপুরি বহাল থাকবে।
এই ব্যবস্থার আওতায় দুধ, ডিম ও মুরগির উৎপাদন, মূল্য এবং আমদানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
চুক্তি নিয়ে কানাডীয়দের মতভেদ
জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ছাড় দিলে কানাডার বেশিরভাগ মানুষ এতে সন্তুষ্ট হবেন না।
জরিপকারী প্রতিষ্ঠান লেজারের এক জরিপে ৫৬ শতাংশ কানাডীয় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কানাডার কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।
তবে দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পক্ষে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে শুল্ক বাড়ানো হলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কানাডার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ডেনিস ডারবি বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি খুব কাছাকাছি চলে এসেছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি এ অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসায়ী মহলের আশা, নতুন চুক্তিটি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থায় ফেরার প্রথম ধাপ হবে। এর ফলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে আগের মতো অধিকাংশ পণ্য শুল্ক ছাড়াই বাণিজ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম