বিনোদন

হত্যার কয়েক মিনিট আগে টুপাক শাকুরের শেষ ছবি, আদালতে সাক্ষ্য দেবেন আলোকচিত্রী

র‍্যাপসংগীতের কিংবদন্তি টুপাক শাকুর হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর তাঁর জীবনের শেষ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ছবিটির গল্প আবার সামনে এসেছে। হত্যার মাত্র কয়েক মিনিট আগে টুপাকের এই ছবি তুলেছিলেন লিওনার্ড জেফারসন। এবার লাস ভেগাসে চলমান হত্যা মামলায় সেই ছবির বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হতে হচ্ছে তাঁকে।

১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে লাস ভেগাস স্ট্রিপের কাছে টুপাককে গুলি করা হয়। তার মাত্র কয়েক মিনিট আগে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়িতে বসা টুপাকের ছবি তোলেন জেফারসন।

জেফারসন জানিয়েছেন, সেদিন রাতে তিনি লাল বাতিতে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পাশের একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি তাঁর নজরে আসে। গাড়িটির ভেতরে ছিলেন টুপাক শাকুর এবং ডেথ রো রেকর্ডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যারিয়ন ‘সুজ’ নাইট।

টুপাককে চিনতে পেরে জেফারসন তাঁকে ডাক দেন।

তিনি বলেন, “আমি বললাম, ‘হেই, কী খবর, প্যাক?’ তিনি আমার দিকে তাকালেন। আমি বললাম, ‘ঠিক আছে।’”

এরপর হঠাৎ টুপাকের একটি ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেন জেফারসন। তিনি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দ্রুত একটি ছবি তুলে ফেলেন।

ছবিতে দেখা যায়, বিএমডব্লিউর সামনের যাত্রী আসনে বসে আছেন টুপাক। তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। পরে ছবিটি টুপাকের জীবনের শেষ সময়ের অন্যতম পরিচিত ছবি হয়ে ওঠে।

ছবির এক মিনিট পরই গুলির শব্দ
জেফারসনের দাবি, ছবি তোলার প্রায় এক মিনিট পরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান।

“হঠাৎ শুনলাম—পপ, পপ, পপ, পপ,” বলেন তিনি।

টুপাক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বুঝতে পারেন জেফারসন। গাড়ির ভেতর থেকে সুজ নাইটকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতেও শুনেছিলেন তিনি।

জেফারসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাইট চিৎকার করে বলছিলেন, “আমার লোক প্যাক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্যাক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে সাহায্য করুন।”

তখন টুপাকের বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে তিনি মারা যান।

প্রায় তিন দশক পর আদালতে সেই আলোকচিত্রী
টুপাক হত্যার ঘটনায় ডুয়েন ‘কেফি ডি’ ডেভিসের বিচার চলছে লাস ভেগাসে। প্রসিকিউশন বলছে, টুপাককে হত্যার পরিকল্পনা ও হামলার সঙ্গে ডেভিস জড়িত ছিলেন।

এই মামলায় ১৯৯৬ সালের সেই রাতের ঘটনা এবং টুপাকের ছবি তোলার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে জেফারসনকে ডাকা হয়েছে।

প্রায় ৩০ বছর পরও ছবিটি তোলার সময় ব্যবহৃত নিকন ফিল্ম ক্যামেরাটি নিজের কাছে রেখেছেন জেফারসন।

তিনি বলেন, “আমি এটি মাত্র দুবার বের করেছি। আসলে, এবার দ্বিতীয়বার।”

জেফারসনের তোলা ছবিটি পরে ‘ভাইব’ ও ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর মতো জনপ্রিয় সাময়িকীতেও প্রকাশিত হয়। সময়ের সঙ্গে এটি টুপাকের জীবনের শেষ সময়ের একটি প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে।

সাধারণ এক মুহূর্ত থেকে ইতিহাস
সেদিন লাস ভেগাসের একটি ব্যস্ত সড়কে লাল বাতিতে গাড়ি থামার সময় জেফারসনের কাছে ঘটনাটি ছিল একেবারেই সাধারণ। তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পরই সেই মুহূর্ত ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা কোল সোয়ানসন জানিয়েছেন, জেফারসন ও ছবিটির পেছনের গল্প নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা চলছে।

সোয়ানসনের ভাষায়, “ছবিটি সবাই চেনে, কিন্তু ছবিটির পেছনের গল্প প্রায় কেউ জানে না।”

একটি ক্যামেরার এক ক্লিক শুধু জেফারসনের জীবনই বদলে দেয়নি, এটি টুপাক শাকুরের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিও ধরে রেখেছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম