আমেরিকা

৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত নীতি আটকালেন মার্কিন বিচারক

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতিকে বাতিল করা ফেডারেল বিচারকের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বিচারক জেনেট ভার্গাসকে ‘বেপরোয়া বিচারক’ (rogue judge) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পিগট বলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে অভিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে, যাতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুবিধাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, বিচারক ভার্গাসের রায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের আইনগত ক্ষমতাকে ভুলভাবে খর্ব করেছে। তবে দপ্তরটি জানিয়েছে, তারা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিসা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

কী রায় দিয়েছেন বিচারক?

নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জেনেট ভার্গাস শুক্রবার রায়ে বলেন, কোনো আবেদনকারী আইন অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়ার পরও শুধু তার জাতীয়তার কারণে তাকে অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বাধ্য করা যাবে না।

ভার্গাস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফেডারেল বেঞ্চে যোগ দেন। এর আগে দুই দশকেরও বেশি সময় ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ইয়েল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে দ্বিতীয় সার্কিট কোর্টে ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়রের অধীনে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন।

৭৫ দেশের ওপর কীভাবে প্রভাব পড়েছিল?

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। তালিকায় সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ ছিল।

এই নীতির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবেদন করতে এবং ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। তবে কর্মকর্তাদের ওই দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নীতিটি পর্যটনসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না।

‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন অভিবাসন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থাকলে তাকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। সাধারণত এই মূল্যায়ন আবেদনকারীভিত্তিক হওয়ার কথা।

ট্রাম্প প্রশাসন এই যাচাই আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সম্ভাব্য প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে বিচারক ভার্গাসের মতে, পররাষ্ট্র দপ্তর ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

রায়ের অর্থ কী?

বিচারকের রায়ে কোনো নির্দিষ্ট আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কনস্যুলার কর্মকর্তারা এখনো কোনো আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করলে বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

অর্থাৎ, রায়টি ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়নি; বরং শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যানের নীতিকে আটকে দিয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম