পেনসিলভানিয়ায় ভুল বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ার পর এক নিরস্ত্র কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাকৃত হত্যার মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, আপার পটসগ্রোভ পুলিশের করপোরাল শন ফ্যারেল ২২ বছর বয়সী গ্লেনউড আর্ল পাইশারকে গুলি করেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, ফ্যারেলের নির্দেশ অনুযায়ী হাত ওপরে তুলে তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন পাইশার। এ সময় তাকে গুলি করা হয়।
৫৮ বছর বয়সী ফ্যারেল ২৩ আগস্ট ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই রাতে বন্ধুদের খুঁজতে গিয়ে ভুল বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন পাইশার। এতে বাড়ির মালিক পুলিশে ফোন করেন।
মন্টগোমারি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কেভিন স্টিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের আইনসম্মত ব্যবহার ছিল না।
তদন্তে জানা গেছে, বন্ধুর ২১তম জন্মদিন উদ্যাপন করতে সেদিন সন্ধ্যায় কয়েকটি পানশালায় গিয়েছিলেন পাইশার। পরে আরও পান করার জন্য এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি ভুল ঠিকানায় পৌঁছে যান।
পাইশার প্রথমে বাড়িটির দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পেছনের বারান্দায় বসে পড়েন। ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই অবস্থায় বাড়ির মালিক জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন এবং পরে ফ্যারেল সেখানে পৌঁছান।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফ্যারেল পাইশারকে চিৎকার করে বলেন, ‘পুলিশ, হাত দেখান।’ এরপর তিনি তাকে হাত ওপরে তুলতে এবং মাটিতে শুয়ে পড়তে নির্দেশ দেন।
বডি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পাইশার হাত ওপরে তুলে ফ্যারেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যারেল আবারও তাকে মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি বলেন, ‘থামুন, নইলে আমি...’ এবং পরপর দুইটি গুলি করেন। গুলি দুটিই পাইশারের বুকে লাগে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্যারেল গুলি চালানোর সময় পাইশার তার কাছ থেকে প্রায় ২০ ফুট বা ৬ মিটার দূরে ছিলেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ফ্যারেলের সরঞ্জামের মধ্যে টেজারসহ প্রাণঘাতী নয় এমন কিছু ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তিনি সেগুলোর কোনোটি ব্যবহার করেননি।
ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরে অন্য এক কর্মকর্তাকে ফ্যারেল বলেন, পাইশার চিৎকার করতে করতে তার দিকে তেড়ে এসেছিলেন এবং মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ মানছিলেন না। তবে প্রসিকিউটররা বলেছেন, বডি ক্যামেরার ফুটেজে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।
মঙ্গলবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ফ্যারেল। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার ডলার। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পাইশারের বাবা-মা গত সপ্তাহে বলেন, তাদের ছেলে ছিলেন ‘অত্যন্ত যত্নশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ একজন মানুষ’। ঘটনার মাত্র কয়েক দিন পরই তার কলেজে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম