ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়কের পাশে এক নবজাতক মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কিশোরীই শিশুটির মা এবং তার বাবা সার্জিও গালভেজ পেরেজ শিশুটির জৈবিক বাবা। পেরেজের বিরুদ্ধে হত্যা, রক্তের সম্পর্কের মধ্যে যৌন সম্পর্ক এবং শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মনটেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মনটেরি কাউন্টির স্ট্রুভ রোডের ১০০ ব্লকের কাছে একটি নবজাতককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
তদন্তের পর গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, ১৪ বছর বয়সী কিশোরী সড়কের পাশেই শিশুটির জন্ম দেয়। পরে নবজাতককে মাটিতে ফেলে রেখে সেখান থেকে চলে যায় সে।
শিশুটির ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ শিশুটির নাম দিয়েছে ‘বেবি অ্যাঞ্জেলিটা’।
পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিরুদ্ধেও হত্যার সন্দেহে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার বাবা পেরেজের বিরুদ্ধে মেয়েটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
৩১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে মনটেরি কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো বলেন, মামলাটি দুই শিশুকে ঘিরে হওয়ায় তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কিশোরী নিজেও তার বাবার যৌন নির্যাতনের শিকার।
নিয়েতো বলেন, এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুই শিশু—প্রাণ হারানো নবজাতক বেবি অ্যাঞ্জেলিটা এবং ১৪ বছর বয়সী একটি শিশু, যে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অভিযোগের মুখোমুখি হলেও নিজেই বাবার যৌন নির্যাতনের শিকার।
পুলিশ পেরেজের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। তিনি একটি সংগীত দলের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা গেছে।
পেরেজের বিরুদ্ধে রক্তের সম্পর্কের মধ্যে যৌন সম্পর্ক, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণ, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, বেআইনি যৌন সম্পর্ক, শিশুকে লুকিয়ে রাখা এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার মতো একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর মা ৩৬ বছর বয়সী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগাকেও শিশু বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি শনাক্ত করে সেটির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়, যা হত্যার তদন্তে নতুন সূত্র দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ টিনা নিয়েতো পেরেজকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাকে এবং ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দারা সব ধরনের আইনসম্মত তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
নিয়েতো বলেন, একটি শিশু হত্যার শিকার হলে, একটি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলে এবং একজন সহিংস অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হলে প্রতিটি ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, পেরেজকে কোথাও দেখা গেলে কেউ যেন তার কাছে না যান বা তাকে আটকানোর চেষ্টা না করেন। বরং দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করতে হবে।
এ ছাড়া পেরেজ ও কিশোরীর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে গোয়েন্দা সার্জেন্ট নিকোলাস কেনেডি বা গোয়েন্দা রিচার্ড জেংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
মনটেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বেবি অ্যাঞ্জেলিটার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। শিশুটির জীবন যেন ভুলে না যাওয়া হয় এবং তার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় পুলিশ।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম