যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কোটি কোটি মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। বুধবার সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা।
মঙ্গলবার স্বাধীন সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবস জানান, তিনি ডার্ক ওয়েবে এমন একটি সাইটের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের লাখ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডিজিটাল কপি বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। তথ্যগুলো আসল কি না, তা যাচাই করতে তিনি নয়জন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের তথ্যের সঙ্গে ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখেন।
ক্রেবসের দাবি, ‘নেক্সাস’ নামে পরিচিত ওই সেবা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েক কোটি মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার দাবি করেছে। শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সই নয়, সেখানে আরও লাখ লাখ পরিচয়পত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এবং কয়েক লাখ মেডিকেল রেকর্ড থাকার কথাও বলা হয়েছে।
ক্রেবস জানান, একটি রুশ সাইবার অপরাধী ফোরামে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর তিনি ওই সাইটটির বিষয়ে জানতে পারেন। এমনকি নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যও সেখানে বিনামূল্যে নমুনা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাইটটির তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছিল বলে দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি হওয়া তথ্য কোনো পুরোনো ডাটাবেস থেকে নয়, বরং চলমান কোনো সাইবার হামলার মাধ্যমে নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইনফোব্লক্সের হুমকি গবেষক জ্যাক এডওয়ার্ডস ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তার নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যও ওই সাইটে বিক্রির জন্য ছিল বলে জানান তিনি।
এডওয়ার্ডস বলেন, এর আগে এত বড় পরিসরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের ঘটনা দেখা যায়নি। তার মতে, তথ্য চুরির ঘটনা যদি এখনো চলতে থাকে, তাহলে এটি শুধু ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি নয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
তবে চুরি হওয়া তথ্যের মূল উৎস কোথায়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্রায়ান ক্রেবসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেট বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধে কাজ করে। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এফবিআই বুধবার সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগটি সত্যি হলে এটি উত্তর আমেরিকায় সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁসের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এত বিপুল মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে পরিচয় চুরি, আর্থিক প্রতারণা ও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে ব্রায়ান ক্রেবস তার প্রতিবেদন প্রকাশ করার কিছুক্ষণ পরই ড্রাইভিং লাইসেন্স বিক্রির ওই ডার্ক ওয়েব সাইটটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম