যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি কমিটির সামনে হাজির হয়ে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা ছিল ধনকুবের বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাকের। তবে শুনানিতে হাজির না হয়ে উল্টো ওই কমিটির জারি করা সমনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে করা মামলায় ব্ল্যাকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি যে সমন জারি করেছে, তা ‘অবৈধ’ এবং কমিটির আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের সঙ্গে এর ‘কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই’।
এর আগে জুনে কমিটির সামনে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ব্ল্যাক মাঝপথে শুনানি থেকে বেরিয়ে যান। তখন আইনপ্রণেতারা তাকে কিছু নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) বা গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এরপরই তাকে এনডিএ জমা দেওয়া এবং ক্যামেরার সামনে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করা হয়।
ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে এপস্টিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তিনি বলেছেন, এপস্টিনকে তিনি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সময়ে বৈধ কাজের জন্য তাকে মোট ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিলেন।
ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বৃহস্পতিবার বলেছেন, বিষয়টি এখন আর এপস্টিনের সত্য উদ্ঘাটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ব্ল্যাককে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব দিতেই মামলা করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্ল্যাকের সমন অমান্য করার বিষয়ে ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের সম্পর্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ব্ল্যাককে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের সমন অমান্য করলে বিষয়টি বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হতে পারে এবং ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারও বলেছেন, মামলা করে আড়ালে না থেকে ব্ল্যাকের উচিত মার্কিন জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
ব্ল্যাক দাবি করেছেন, এপস্টিনের ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর।
এপস্টিন-সংক্রান্ত বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথি, ছবি ও ভিডিওতেও ব্ল্যাকের নাম এসেছে। তবে এসব নথিতে কারও নাম বা ছবি থাকা মানেই তিনি কোনো অপরাধ করেছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
এদিকে রুশ মডেল গুজেল গানিয়েভার সঙ্গে ব্ল্যাকের ছয় বছরের সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর গানিয়েভা তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তার করা একটি মামলা পরে আদালত খারিজ করে দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ব্ল্যাক গানিয়েভার নীরবতা নিশ্চিত করতে একটি এনডিএ তৈরি করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে দেখা যায়, এপস্টিন ব্ল্যাককে গানিয়েভার বিষয়ে পরামর্শও দিয়েছিলেন। তবে ব্ল্যাকের আইনজীবী গানিয়েভার অভিযোগকে ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। ব্ল্যাক নিজেও আগে দাবি করেছিলেন, তিনি চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালে ব্ল্যাক তার সহপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে লাগাতার জনসমালোচনা ও সংবাদমাধ্যমের নজর তার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম