আমেরিকা

শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে তিন মাস পর সিনেটে ফিরলেন মিচ ম্যাককনেল

তিন মাসেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ফিরেছেন প্রবীণ রিপাবলিকান নেতা ও কেন্টাকির সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। সোমবার সিনেটে ফিরে একটি বিচারিক নিয়োগের পক্ষে ভোটও দেন ৮৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। সিনেটে ফেরার আগে ম্যাককনেল বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে এবং আবারও সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও সাম্প্রতিক পড়ে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছিল। ম্যাককনেল জানান, তার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং অনেক সময় হতাশাজনক ছিল। ছোটবেলায় পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও তার বর্তমান সুস্থতার পথে কিছুটা বাধা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় সিনেটে উপস্থিত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। চলতি মাসে কেন্টাকির মানুষের হয়ে আবার নিয়মিত দায়িত্ব পালনে ফিরতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান। মার্কিন রাজধানীতে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ম্যাককনেলকে হুইলচেয়ারে করে গাড়িতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে সিনেটের ফ্লোরে দেখা যায়। সেখানে কয়েকজন সিনেটর তাকে স্বাগত জানান। ম্যাককনেল সর্বশেষ ভোট দিয়েছিলেন গত ১১ জুন। এরপর ১৪ জুন নিজের বাড়িতে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। প্রায় এক মাস পর তার কার্যালয় জানায়, পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তার হালকা নিউমোনিয়াও ধরা পড়ে। এর আগেও ম্যাককনেলের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে পড়ে গিয়ে তিনি সামান্য আহত হন। তার এক বছর আগে আরেকবার পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত ও মস্তিষ্কে সামান্য সমস্যা ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকার ঘটনাও তার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল। মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ম্যাককনেল ৪১ বছর ধরে সিনেটের সদস্য। সোমবার তার প্রত্যাবর্তন ঘটে পাঁচ সপ্তাহের বিরতির পর সিনেটের কার্যক্রম আবার শুরুর দিনে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটররা এখন আইন প্রণয়নের শেষ পর্যায়ের কাজে ব্যস্ত হচ্ছেন। ওই নির্বাচন কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ম্যাককনেলের বর্তমান মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হচ্ছে এবং তিনি আর পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন না।