আমেরিকা

‘এআই ফোর্স’ গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জার নিয়োগ দেবেন ট্রাম্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠন করবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একজন ‘জার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এআই শিল্পের বিকাশে তার প্রশাসন কোনোভাবেই বাধা দেবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করার যে আহ্বান উঠেছে, সেটিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প তার পরিকল্পনার বিস্তারিত বা এটি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা অবশ্য জানাননি। তিনি বলেন, এআই বর্তমান বিশ্বের পরবর্তী শিল্পবিপ্লব বা ইন্টারনেট বিপ্লবের মতো বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তার ধারণা, এর প্রভাব এত ব্যাপক হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে এর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এআই প্রযুক্তিতে চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও এআই নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, এআই ব্যবহার করে কেউ অপরাধ বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালালে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে চলমান সমালোচনা ও উদ্বেগকে তিনি আবারও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন গবেষক সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি একজন গবেষক এআইয়ের কারণে সব মানুষের মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন। এদিকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভবিষ্যতে মানুষের সক্ষমতার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে তারা। Anthropic, OpenAI ও Google-এর মতো প্রতিষ্ঠান তাদের এআই সিস্টেমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা এবং ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে চ্যাটবট ব্যবহারের ঘটনাও প্রকাশ করেছে। Anthropic-এর প্রধান ডারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পুরো শিল্পখাতে নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনভাবে এআই মডেল উন্নয়নের ওপর নজরদারির প্রস্তাব দিয়েছেন। OpenAI-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং xAI-এর ইলন মাস্কও তার কিছু সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়েছেন। Anthropic-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বলেছেন, এআই ব্যবস্থায় এমন একটি ‘কিল সুইচ’ থাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা তৃতীয় কোনো পক্ষ পরীক্ষা করতে পারবে। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অল্টম্যানের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করতে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাজ্যেও এআইয়ের কারণে মানবাধিকার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতারা। দেশটির জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটস (JCHR) বলেছে, এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে তৈরি হওয়া ঝুঁকির মাত্রা ও গুরুত্ব মোকাবিলায় নতুন আইন প্রয়োজন।