আমেরিকা

গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটাররা, ট্রাম্প বলছেন ইরান যুদ্ধের জন্য এটি ‘সামান্য মূল্য’

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় নিত্যদিনের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক মানুষ। কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বাড়তি গ্যাসের দামকে ‘খুব সামান্য মূল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টেক্সাসের ২৮ বছর বয়সী অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মী কুইনটেন মার্টিনেজ বলেন, আগে গাড়িতে জ্বালানি ভরার সময় এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন তাকে ভাবতে হচ্ছে, এই সপ্তাহে গ্যাস কিনবেন নাকি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করবেন। গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব তার মতো কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই সরাসরি পড়ছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প সম্প্রতি উত্তর ক্যারোলিনায় এক সমাবেশে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে বলেন, গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়া খুব বড় বিষয় নয় এবং যুদ্ধের জন্য এটি ‘খুব সস্তা মূল্য’ দিতে হচ্ছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটি ঠেকানোকে তিনি যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এদিকে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন বা এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর এএএ জানিয়েছিল, এক সপ্তাহে দাম ১৬ সেন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৪৩ ডলারে উঠেছে এবং এক বছর আগের তুলনায় তা এক ডলারেরও বেশি বেশি। গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এএএ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রায় ১০০ ডলার ব্যারেল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বছরের এই সময়ে সাধারণত জ্বালানির দাম কিছুটা কমার কথা থাকলেও এবার উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অ্যারিজোনার ৬৩ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি ড্যান লয়েড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু গাড়িতে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৯ ডলার দরে জ্বালানি কেনার পর তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার প্রভাব সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে। অর্থনীতি, সুদের হার, খাবার ও গ্যাসের দাম—সব ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের ওপর চাপ পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন বলেও জানান লয়েড। টেক্সাসের এডিনবার্গের ছোট ব্যবসায়ী ৫২ বছর বয়সী ক্রিস্টিন জিমেনেজ অবশ্য গ্যাসের বাড়তি দামকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চান না। তার মতে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রেসিডেন্টের সময়ই জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে তিনি আগামী নির্বাচনে একজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। মিশিগানের ৩৫ বছর বয়সী গার্থ জনসনের ব্যবসায় একাধিক গ্যাসচালিত গাড়ি রয়েছে, পাশাপাশি ডিজেলচালিত একটি যন্ত্রও ব্যবহার করেন তিনি। ফলে জ্বালানির বাড়তি দাম তার ব্যবসার খরচেও প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জনসন বলেন, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করার মতো যথেষ্ট তথ্য তার নেই, তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজের জীবন চালাতে তাকে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ভার্জিনিয়ার ৬০ বছর বয়সী প্রকৌশলী অ্যালান জনসন গ্যাসের দাম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি এরই মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। উত্তর ক্যারোলিনার র‍্যালিতে স্কুলশিক্ষক ব্রিটনি বিভিনসও গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। মিশিগানের ল্যান্সিংয়ে রিনা রিসপারও জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আট গ্যালন প্রিমিয়াম গ্যাস কিনতেই তাকে ৫০ ডলার খরচ করতে হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম তাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে গ্যাসের দাম নিয়ে ভোটারদের অবস্থান একরকম নয়—কেউ বাড়তি ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ যুদ্ধের পেছনের কারণকে বিবেচনায় রেখে রিপাবলিকানদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলছেন।