যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রার্থীরা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
মিশিগানের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং আইওয়ার সিনেট প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। দুজনই এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন।
রজার্স এক নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে হবে। তিনি এর সঙ্গে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের বিষয়টিও যুক্ত করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানি খরচ কমার সুযোগ তৈরি হবে।
হিনসনও বলেছেন, যুদ্ধের কারণে আইওয়ার বাসিন্দাদের জ্বালানি ও বাজার খরচের চাপ বহন করতে হচ্ছে। তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জ্বালানি কর সাময়িকভাবে স্থগিত এবং ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার মতো পদক্ষেপের কথা বলেছেন।
তবে হিনসনের অবস্থানের পরিবর্তন বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তিনি এর আগে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। গত সপ্তাহের একটি ভোটেও তিনি এমন একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, যেখানে মার্কিন বাহিনীকে ইরান থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আইওয়ার আরও দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জ্যাক নান ও মারিয়েনেট মিলার-মিক্সও সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। নান বলেছেন, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন এবং তিনি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধকে সমর্থন করবেন না।
মিশিগানের রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী জন জেমসও বলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, তা করা উচিত। উইসকনসিনের গভর্নর প্রার্থী টম টিফানি এবং ওহাইওর সিনেট প্রার্থী জন হিউস্টেডও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, বিশেষ করে ডিজেলের দাম নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে অনুমোদনের হারও কমেছে বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে। রয়টার্স ও ইপসসের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশে নেমেছে।
তবে সব রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন না। দলটির অনেক প্রার্থী এখনো তার নীতির প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল কমিটির এক মুখপাত্রও বলেছেন, প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও দল সামগ্রিকভাবে তাকে সমর্থন করছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম, অভিবাসন ও শুল্কনীতি নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অবস্থান কতটা পরিবর্তিত হয়, তা এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।