নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি নির্জন সৈকতের পার্কিং লটে ডাস্টবিনের ভেতর থেকে ৩৮ বছর বয়সী তানায়া ক্যাম্পবেল অর্টিজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাবেক এই এক্সোটিক ড্যান্সার পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন এবং স্থানীয় নাইটক্লাব অঙ্গনে পরিচিত ও প্রিয় মুখ হিসেবে তাকে স্মরণ করছেন তার বন্ধুরা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে শিপসহেড বে এলাকার প্লাম্ব বিচের কাছে বেল্ট পার্কওয়ের পাশের একটি পার্কিং লটে তার মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তানায়া দীর্ঘদিন নাইটক্লাবে ‘হানি’ নামে কাজ করতেন। সেখানে কাজের সূত্রে গড়ে ওঠা পরিচিতি ও সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চলতি বছর তিনি নিজের ইভেন্ট কোম্পানি ‘রেড হানি প্রোডাকশন্স’ চালু করেন। জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি তিনি বার সার্ভিস ও ঘরে তৈরি খাবারের ক্যাটারিংও দিতেন। বন্ধুদের ভাষ্য, নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানদের নিয়েই ছিল তার জীবনের বড় অংশ।
তানায়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্যাসি গোরহাম জানান, ২০০৭ সালে একটি স্ট্রিপ ক্লাবে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়। তার ভাষায়, তানায়া ছিলেন অত্যন্ত মিষ্টি ও হাসিখুশি একজন মানুষ। সবসময় হাসতেন এবং অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন। গোরহাম বলেন, যেভাবে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর এবং একজন মা হিসেবে তানায়া আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানায়া নিয়মিত সন্তানদের নিয়ে পোস্ট করতেন। এক মেয়ের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো থেকে শুরু করে ছেলের জন্মদিন এবং বাস্কেটবল দলের খেলা নিয়ে উৎসাহ দেওয়ার পোস্টও করতেন তিনি। তার বড় মেয়ে জুলিসা হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, মায়ের এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের খরচ ও অন্যান্য সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহও করা হচ্ছে।
তানায়ার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত করছে। তিনি সেন্ট আলবান্স এলাকায় থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি।
তানায়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের নাইটক্লাব অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। সাবেক সহকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নাইটক্লাবের কর্মীদের মধ্যে পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়। গোরহাম জানান, খবরটি শোনার পর অনেক সাবেক সহকর্মীই হতবাক হয়ে যান এবং এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে ‘হানি’ আর নেই।
বন্ধুরা তানায়ার মানবিকতার কথাও স্মরণ করছেন। গোরহাম জানান, একবার এক গ্রাহক তাকে মুখে আঘাত করার পর তানায়া মঞ্চ থেকে নেমে এসে অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত তার পাশে ছিলেন। রক্তে ভেসে গেলেও তানায়া তাকে ছেড়ে যাননি। সেই স্মৃতি মনে করে গোরহাম বলেন, তানায়া এমনই একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়াতেন।
পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তানায়া ছিলেন একজন ভালো মা, প্রাণবন্ত মানুষ এবং নির্ভরযোগ্য বন্ধু। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এতে কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।