মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর ম রদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনকে গাছে ঝোলানোর আগেই তার মৃ ত্যু হয়েছিল। পরে তার ম রদেহ ঘটনাস্থলে এনে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
চার সন্তানের মা তাসিয়া ফরচুনকে গত আগস্টে জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির কাছে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘ ট নাটি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর শহর জ্যাকসনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ মিসিসিপির ইতিহাসে বর্ণবাদী স হিংসতা ও লি ন্চিংয়ের বহু ঘটনা রয়েছে।
তবে শুক্রবার পুলিশ জানায়, ফরচুনের মৃ ত্যু গাছের সঙ্গে ঝোলানোর কারণে হয়নি। তার মৃ ত্যুর আগে তাকে অন্য কোনোভাবে হ ত্যা করা হয়েছিল এবং পরে ঘটনাস্থল ও ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি সাজানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
ফরচুনের ময়নাতদন্ত করা মেডিকেল পরীক্ষক তার মৃ ত্যুকে হ ত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ঠিক কীভাবে তার মৃ ত্যু হয়েছে বা কেন ম রদেহটি এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। তাদের সবাই কৃষ্ণাঙ্গ।
ফরচুনের মা ক্রিস্টি স্পাইভি বলেন, পুলিশের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়ার পরও তার মনে আগের চেয়ে আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, মেয়ের মৃ ত্যু ঝুলে থাকার কারণে হয়নি জানতে পেরে শুরুতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। অন্তত মেয়েকে ওই ভয়াবহভাবে ম রতে হয়নি—এমনটাই ভেবেছিলেন তিনি।
স্পাইভি বলেন, পুলিশ তাকে ফোন করার পর তিনি কেঁদে ফেলেন এবং কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তবে এখনো তিনি জানতে পারেননি কীভাবে তার মেয়ের মৃ ত্যু হয়েছে, কবে হয়েছে কিংবা সন্দেহভাজন তিনজনের সঙ্গে তার মেয়ের সম্পর্ক কী ছিল।
তিনি বলেন, ‘এখনো মৃ ত্যুর কারণ নেই, মৃ ত্যুর তারিখও নেই—কিছুই নেই। আসলে তাকে কীভাবে মা রা হলো?’
ফরচুনের মৃ ত্যুর ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে কয়েকজন আইনপ্রণেতা ফেডারেল পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। নতুন তথ্য প্রকাশের পরও ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি।
পুলিশ শুক্রবার আদালতকে জানিয়েছে, ফরচুনের মৃ ত্যুর পেছনে মাদ ক-সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে। এক গোয়েন্দা আদালতকে বলেন, মাদ ক চু রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফরচুনকে হ ত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে তার মা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন মা দকাশক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্পাইভি বলেন, ‘তাসিয়ার মা দকাশক্তির সমস্যা ছিল। সে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে যদি তখনও মা দ ক সেবন করে থাকে, যা সম্ভবত করছিল, তবুও তার সঙ্গে এমন আচরণ করার অধিকার কারও ছিল না। কারও সঙ্গেই এমন হওয়া উচিত নয়।’
মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃ ত্যুর সময় ফরচুনের কোনো স্থায়ী বাসস্থান ছিল না। তবে তিনি সাধারণত পরিচিতজনদের বাড়িতে থাকতেন।
ফরচুনের চার ছেলে, যাদের বয়স এক থেকে সাত বছরের মধ্যে, বর্তমানে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মেয়ের মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন ফরচুনের মা।