আমেরিকা

প্রায় ৯০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড, কেন ফিরছে পুরোনো শাস্তির আয়োজন

প্রায় ৯০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত কারাগারের ভেতরে সীমিতসংখ্যক সাক্ষীর উপস্থিতিতে কার্যকর করা হয়েছে। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের রীতিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষণার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বৈধ মৃত্যুদণ্ড সরাসরি ইন্টারনেটে সম্প্রচার করা হতে পারে বলে মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তবে এটি এখনো ঘোষিত পরিকল্পনা; সম্প্রচারটি কীভাবে হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন, সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হওয়ার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৩৬ সালে কেনটাকির ওভেনসবোরো শহরে রেইনি বেথিয়ার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল প্রকাশ্যে। ঘটনাটিকে দেশটির শেষ বৈধ জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড হিসেবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। সে সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ফাঁসি দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, দর্শকের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় এবং মৃত্যুদণ্ডকে ঘিরে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের আয়োজনের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।  এর আগে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডকে অপরাধ দমনের উপায় হিসেবে দেখা হতো। অনেকের ধারণা ছিল, অপরাধীর শাস্তি সরাসরি দেখলে অন্যরা অপরাধ করতে ভয় পাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্য ফাঁসির নিষ্ঠুরতা, ব্যর্থভাবে শাস্তি কার্যকরের ঘটনা এবং দর্শকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ফলে মৃত্যুদণ্ডকে জনসমাগমের আয়োজন থেকে সরিয়ে কারাগারের ভেতরে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা তৈরি হয়। ইতিহাসবিদ ও মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক গবেষকেরা এ পরিবর্তনের পেছনে জনসমক্ষে শাস্তি কার্যকরের দৃশ্য নিয়ে বাড়তে থাকা সামাজিক আপত্তিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবারের পরিকল্পনায় সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, কোনো মৃত্যুদণ্ড কারাগারের ভেতরে সীমিতসংখ্যক মানুষের সামনে কার্যকর করা এবং সেটি ইন্টারনেটে সরাসরি দেখানো এক বিষয় নয়। অনলাইনে সম্প্রচার হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ঘটনাটি দেখতে পারেন। একই সঙ্গে সম্প্রচারের দৃশ্য ধারণ, সংরক্ষণ ও পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। এ কারণে বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংস দৃশ্যের বিস্তার নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এ ধরনের সম্প্রচার অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, কঠোর শাস্তির দৃশ্য অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করতে পারে। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক গবেষকদের বক্তব্য হলো, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখালে অপরাধ কমে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং সহিংস দৃশ্যের প্রকাশ্য প্রচার মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে শাস্তির নিষ্ঠুরতা আরও বাড়বে। তাদের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের শাস্তি কার্যকরের ক্ষমতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এমন একটি শাস্তি যখন অনলাইনে সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়, তখন সেটি জনসমক্ষে শাস্তি প্রদর্শনের পুরোনো ধারণাকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ১৭টি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে আফগানিস্তানে ছয়টি এবং ইরানে ১১টি ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড এখনো ফেডারেল আইন, সামরিক আইন এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আইনে বৈধ। তবে সব অঙ্গরাজ্যে এটি কার্যকর করা হয় না। সাধারণত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। হাসানের ক্ষেত্রে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের পরিকল্পনাটি তাই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সামরিক বাহিনীতে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা, আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আবার জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডের আলোচনা সামনে আসার পেছনে শুধু একটি দণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা নয়, বরং শাস্তির ধরন, স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক রয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের গোপনীয়তার প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে এই সম্প্রচার অপরাধ প্রতিরোধে কোনো বাস্তব সুফল দেবে কি না, নাকি মৃত্যুদণ্ডের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করবে, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রায় ৯০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত কারাগারের ভেতরে সীমিতসংখ্যক সাক্ষীর উপস্থিতিতে কার্যকর করা হয়েছে। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের রীতিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষণার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বৈধ মৃত্যুদণ্ড সরাসরি ইন্টারনেটে সম্প্রচার করা হতে পারে বলে মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তবে এটি এখনো ঘোষিত পরিকল্পনা; সম্প্রচারটি কীভাবে হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন, সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হওয়ার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৩৬ সালে কেনটাকির ওভেনসবোরো শহরে রেইনি বেথিয়ার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল প্রকাশ্যে। ঘটনাটিকে দেশটির শেষ বৈধ জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড হিসেবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়। সে সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ফাঁসি দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, দর্শকের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় এবং মৃত্যুদণ্ডকে ঘিরে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের আয়োজনের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর আগে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডকে অপরাধ দমনের উপায় হিসেবে দেখা হতো। অনেকের ধারণা ছিল, অপরাধীর শাস্তি সরাসরি দেখলে অন্যরা অপরাধ করতে ভয় পাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্য ফাঁসির নিষ্ঠুরতা, ব্যর্থভাবে শাস্তি কার্যকরের ঘটনা এবং দর্শকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ফলে মৃত্যুদণ্ডকে জনসমাগমের আয়োজন থেকে সরিয়ে কারাগারের ভেতরে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা তৈরি হয়। ইতিহাসবিদ ও মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক গবেষকেরা এ পরিবর্তনের পেছনে জনসমক্ষে শাস্তি কার্যকরের দৃশ্য নিয়ে বাড়তে থাকা সামাজিক আপত্তিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবারের পরিকল্পনায় সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, কোনো মৃত্যুদণ্ড কারাগারের ভেতরে সীমিতসংখ্যক মানুষের সামনে কার্যকর করা এবং সেটি ইন্টারনেটে সরাসরি দেখানো এক বিষয় নয়। অনলাইনে সম্প্রচার হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ঘটনাটি দেখতে পারেন। একই সঙ্গে সম্প্রচারের দৃশ্য ধারণ, সংরক্ষণ ও পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। এ কারণে বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংস দৃশ্যের বিস্তার নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

এ ধরনের সম্প্রচার অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, কঠোর শাস্তির দৃশ্য অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করতে পারে। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক গবেষকদের বক্তব্য হলো, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখালে অপরাধ কমে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং সহিংস দৃশ্যের প্রকাশ্য প্রচার মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে শাস্তির নিষ্ঠুরতা আরও বাড়বে। তাদের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের শাস্তি কার্যকরের ক্ষমতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এমন একটি শাস্তি যখন অনলাইনে সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়, তখন সেটি জনসমক্ষে শাস্তি প্রদর্শনের পুরোনো ধারণাকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ১৭টি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে আফগানিস্তানে ছয়টি এবং ইরানে ১১টি ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড এখনো ফেডারেল আইন, সামরিক আইন এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আইনে বৈধ। তবে সব অঙ্গরাজ্যে এটি কার্যকর করা হয় না। সাধারণত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। হাসানের ক্ষেত্রে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের পরিকল্পনাটি তাই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সামরিক বাহিনীতে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা, আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আবার জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ডের আলোচনা সামনে আসার পেছনে শুধু একটি দণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা নয়, বরং শাস্তির ধরন, স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক রয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের গোপনীয়তার প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে এই সম্প্রচার অপরাধ প্রতিরোধে কোনো বাস্তব সুফল দেবে কি না, নাকি মৃত্যুদণ্ডের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।