ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে আঘাত হানার পর শক্তি হারিয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ইসাইয়াস। শুক্রবার রাতে ডেস্টিনের কাছে আঘাত হানার সময় ঝড়টি দ্বিতীয় শ্রেণির হারিকেন ছিল। এতে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। ঝড়ের প্রভাবে ফ্লোরিডা ও আলাবামার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়টি দুর্বল হলেও আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের ডেস্টিনের কাছে আঘাত হানে ইসাইয়াস। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল বা ১৬৯ কিলোমিটার। পরে দ্রুত শক্তি হারিয়ে শনিবার ভোরের দিকে এটি পোস্ট-ট্রপিক্যাল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি নেমে আসে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ মাইল বা ১০৫ কিলোমিটারে।
ঝড়টির আঘাতে ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় সড়ক প্লাবিত হয়েছে। পেনসাকোলাসহ কয়েকটি এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সড়কে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পেনসাকোলার একটি ভবনের ছাদ প্রবল বাতাসে উড়ে যাওয়ার দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঝড়ের কারণে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শনিবার ভোরের দিকে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় কয়েক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোট বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গ্রাহকের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপদ পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় জরুরি সেবার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে সীমিত রাখতে হয়েছে।
স্থলভাগে দুর্বল হলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ইসাইয়াস দুর্বল হয়ে গেলেও এর প্রভাব দ্রুত শেষ হবে না। ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূল, দক্ষিণ আলাবামা এবং আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে কিছু এলাকায় টর্নেডো সৃষ্টির ঝুঁকির কথাও জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি আলাবামা অতিক্রম করে টেনেসি উপত্যকার দিকে এগোবে। এ সময় এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাস থাকতে পারে। কিছু এলাকায় কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হয়েছে। ফলে নদী-নালা ও ছোট জলপ্রবাহের পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শহরের নিচু এলাকায় পানি জমতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই মাটি ভেজা রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফ্লোরিডা ও আলাবামার কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ, বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের সময় রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ, ভাঙা বিদ্যুতের খুঁটি এবং প্লাবিত সড়কও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। উদ্ধার ও জরুরি সেবার কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থেও কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মৌসুমে আটলান্টিক মহাসাগরে এটি প্রথম হারিকেন। মৌসুমের এত দেরিতে প্রথম হারিকেনের সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে এর আঘাত আবহাওয়াবিদদের নজর কেড়েছে। তবে ঝড়টির প্রভাব শুধু উপকূলীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। স্থলভাগের আরও ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসাইয়াসের বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় হারিকেন হিসেবে এর শক্তি শেষ হলেও দুর্যোগের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্থলভাগে বৃষ্টিজনিত বন্যা এখন বড় উদ্বেগ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের গতির ওপর।