জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার শুনানি শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। নতুন মেয়াদের প্রথম দিন, ৫ অক্টোবর এ মামলার শুনানি হবে।
মামলাটি দায়ের করেছে কলোরাডোর বোল্ডার শহর ও কাউন্টি। তারা এক্সনমোবিল ও কানাডার সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের বিপুল ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বোল্ডার কর্তৃপক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো মেরামত, পরিবেশগত ক্ষতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের খরচ রয়েছে। শহরটির অভিযোগ, তেল কোম্পানিগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানলেও তা প্রকাশ্যে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।
তবে এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানিগুলোর যুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে। তাদের দাবি, রাজ্য আইনের মাধ্যমে এ ধরনের মামলা চালানোর সুযোগ দিলে দেশটির জ্বালানি নীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের আলাদা হস্তক্ষেপ তৈরি হতে পারে।
মামলার মূল প্রশ্ন হলো, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির জন্য রাজ্য আইনের অধীনে তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবি করা যায় কি না। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এ পর্যায়ে মামলাটি শুনতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও বিবেচনা করবে।
এই মামলার গুরুত্ব শুধু বোল্ডারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, শহর ও স্থানীয় সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রায় ৬০টি মামলা করেছে। এসব মামলায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের দাবি রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট যদি বোল্ডারের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং মামলাটি রাজ্য আদালতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে দেশজুড়ে চলমান অন্য মামলাগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে তেল কোম্পানিগুলোর যুক্তি গ্রহণ করা হলে একই ধরনের অনেক মামলা বাধাগ্রস্ত বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এ মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি এক্সনমোবিল বা সানকর এনার্জির শেয়ার না রাখলেও অন্যান্য তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আদালতে সমান ৪-৪ ভোট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এমন হলে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে, তবে সেটি দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক নজির তৈরি করবে না।
মামলাটির রায় আগামী বছরের জুনের মধ্যে আসতে পারে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।