তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, তার দেশ কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দিতে চায় না, তবে চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা কখনোই ত্যাগ করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
লাই চিং-তে বলেন, “তাইওয়ান, রিপাবলিক অব চায়না, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ।”
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান কোনো সংঘাত সৃষ্টি করবে না, উত্তেজনাও বাড়াবে না। তবে কোনো চাপের মুখে নিজেদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্ত জীবনব্যবস্থা থেকে সরে আসবে না।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে তাইওয়ান প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, “আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক।” তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং তিনি চীনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না।
যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাইওয়ানের প্রধান মিত্র এবং আইন অনুযায়ী দ্বীপটিকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এ ধরনের সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি।
লাই চিং-তে যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থনের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চীন এখনো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ করার হুমকি বজায় রেখেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে “শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন”-এর কথা বললেও প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। অন্যদিকে তাইওয়ান বলে আসছে, তারা ইতোমধ্যেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, তাই নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম