লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেস ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টে আইসিই অভিযানে আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের ডাউনটাউন ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টে বৃহস্পতিবার ফেডারেল এজেন্টদের হঠাৎ অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত ওই এলাকায় অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আইউইটনেস নিউজকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল বেলায় এজেন্টরা এলাকায় ঢুকে পড়েন এবং বিক্রেতাদের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইতে থাকেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাপল অ্যাভিনিউ ও ১১তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে কয়েকটি আনমার্কড গাড়ি এসে থামে। সেখানে কিছু সশস্ত্র এজেন্ট রাস্তায় অবস্থান নেন এবং অভিযান পরিচালনা করেন। আশপাশের লোকজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় কেউ কেউ এজেন্টদের উদ্দেশে চিৎকার ও প্রতিবাদ জানান। এল.এ. ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টের মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনস বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ জুরিতা বলেন, “এই এলাকাটি মূলত লাতিনো অধ্যুষিত। এখানে অনেক সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট ব্যবসা রয়েছে। এমন একটি অভিজ্ঞতা তাদের জন্য সত্যিই খুব কঠিন।” এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস। তিনি বলেন, আইসিই (ICE)-এর এই পদক্ষেপ অভিবাসী কমিউনিটিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ফেডারেল তৎপরতা বাড়ানোর একটি ধারাবাহিকতার অংশ। মেয়রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, “এই ধরনের কৌশল কাউকে নিরাপদ করে না। বরং আমাদের কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়ায় এবং শহরের নিরাপত্তার মৌলিক নীতিকে ব্যাহত করে।” কারেন বাস আরও জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগের হুমকিও তাকে উদ্বিগ্ন করছে। এই আইন কার্যকর হলে অভিবাসন অভিযানে সহায়তার জন্য আবারও লস অ্যাঞ্জেলেসে সামরিক বাহিনী মোতায়েন হতে পারে। ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পরও এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারা বলেন, “আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সৃজনশীল কর্মীদের পাশে থাকার জন্য এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন দেখানোর জন্য।” পোস্টে আরও বলা হয়, “আমাদের ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে সহায়তা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।” এদিকে অনেক দোকান মালিকের কাছে বৃহস্পতিবারের এই অভিযান গত বছরের জুনে ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টে চালানো বড় ধরনের অভিবাসন অভিযানের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লেগেছিল। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে এই ফেডারেল তৎপরতা আবারও ভয় তৈরি করবে এবং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম