মিনিয়াপোলিসে এক ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া সিনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা সহজ হবে।
মঙ্গলবার সিনেট বিল–৭৪৭ পাস হয়, যা উত্থাপন করেন সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট সিনেটর স্কট উইনার। বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ৩০টি এবং বিপক্ষে ১০টি—ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলীয় লাইনে বিভক্ত হয়ে ভোট হয়।
বিলটি অনুযায়ী, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি বাড়ি তল্লাশি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দেওয়া কিংবা অন্যান্য সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।
এর আগে রাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা করা সম্ভব হলেও ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। সিনেটর উইনার বলেন, এই বিল সেই আইনি প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসন অভিযান ও ধরপাকড় নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের পর নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটসহ আরও কয়েকটি রাজ্য একই ধরনের আইন বিবেচনা করছে।
মঙ্গলবারের ভোটের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার ঘটনার পর। গত শনিবার ফেডারেল কর্মকর্তারা তাকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখেন, তার কোমরে থাকা বন্দুক সরিয়ে নেওয়ার পর পেছন দিক থেকে একাধিক গুলি চালান বলে অভিযোগ। রাজ্য সিনেটে বিতর্কের সময় বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এই ঘটনাকে “মৃত্যুদণ্ড” বা “হত্যা” বলে আখ্যা দেন।
এ মাসের শুরুতে মিনেসোটায় রেনি গুড নামের তিন সন্তানের জননীও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। কর্মকর্তারা দাবি করেন, তিনি গাড়ি নিয়ে এক কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে গেলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে এই দাবি নিয়ে বিতর্ক চলছে।
এই হত্যাকাণ্ডগুলো এবং সরকারের এই অবস্থান—যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রবেশের জন্য বিচারিক পরোয়ানার প্রয়োজন নেই—ডেমোক্র্যাট নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের নামে ফেডারেল কর্মকর্তারা আইন উপেক্ষা করছেন।
ভোটের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উইনার বলেন, তার প্রস্তাবিত আইন ফেডারেল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবে।
তিনি বলেন, “বর্তমান আইনে কোনো রাজ্য বা স্থানীয় পুলিশ যদি আপনার মা’কে গুলি করে বা প্রকাশ্যে কোনো আইসিইউ নার্সকে হত্যা করে, আপনি মামলা করতে পারেন। কিন্তু একই কাজ যদি কোনো ফেডারেল এজেন্ট করে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা প্রায় অসম্ভব।” তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী–সম্পর্কিত সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, এই আইন স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত মামলা করার সুযোগ তৈরি করবে। সিনেট বিতর্কে রিপাবলিকান সিনেটর টনি স্ট্রিকল্যান্ড মিনেসোটার পরিস্থিতিকে “অরাজকতা” হিসেবে স্বীকার করলেও বিলটিকে অভিবাসন রাজনীতির অংশ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার উচিত গ্যাসের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো রাজ্যভিত্তিক সমস্যায় মনোযোগ দেওয়া। তার বক্তব্যের জবাবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর সুসান রুবিও বলেন, “এটা অভিবাসন নয়, এটা মানুষের অধিকার লঙ্ঘন এবং আমরা যে হত্যাকাণ্ড দেখছি তা নিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আইনের চোখে সমান ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।” বিলটি এখন রাজ্য অ্যাসেম্বলিতে পাঠানো হবে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির শূন্য হওয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উইনার জানান, গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই বিল সমর্থন করবেন কি না বা আইনসভা পাস করলে তাতে স্বাক্ষর করবেন কি না—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এই বিলের পেছনে আরেকটি ঘটনা ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপত্তাকর্মী জর্জ রেটেস জুনিয়রের আটক। গত জুলাইয়ে ক্যামারিলোতে এক অভিযানের পর তাকে আটক করা হয়। মার্কিন নাগরিক ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য রেটেস অভিযোগ করেন, তাকে তিন দিন ধরে ফোন বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে আটকে রাখা হয়। বর্তমান আইনে, যুক্তরাষ্ট্রের কোড সেকশন ১৯৮৩ অনুযায়ী রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা গেলেও ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের “বিভেন্স বনাম সিক্স আননোন ফেডারেল এজেন্টস” মামলার রায়ের ভিত্তিতে সীমিত সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট এই “বিভেন্স ডকট্রিন” ব্যবহারের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করেছে। আইনটির বিরোধীদের মধ্যে রয়েছে পিস অফিসার্স রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া, যা ৮৫ হাজারের বেশি জননিরাপত্তা কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের দাবি, এই আইন একাধিক পথে মামলা করার সুযোগ তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এলএবাংলাটাইমস/ওএম
তিনি বলেন, “বর্তমান আইনে কোনো রাজ্য বা স্থানীয় পুলিশ যদি আপনার মা’কে গুলি করে বা প্রকাশ্যে কোনো আইসিইউ নার্সকে হত্যা করে, আপনি মামলা করতে পারেন। কিন্তু একই কাজ যদি কোনো ফেডারেল এজেন্ট করে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা প্রায় অসম্ভব।” তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী–সম্পর্কিত সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, এই আইন স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত মামলা করার সুযোগ তৈরি করবে। সিনেট বিতর্কে রিপাবলিকান সিনেটর টনি স্ট্রিকল্যান্ড মিনেসোটার পরিস্থিতিকে “অরাজকতা” হিসেবে স্বীকার করলেও বিলটিকে অভিবাসন রাজনীতির অংশ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার উচিত গ্যাসের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো রাজ্যভিত্তিক সমস্যায় মনোযোগ দেওয়া। তার বক্তব্যের জবাবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর সুসান রুবিও বলেন, “এটা অভিবাসন নয়, এটা মানুষের অধিকার লঙ্ঘন এবং আমরা যে হত্যাকাণ্ড দেখছি তা নিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আইনের চোখে সমান ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।” বিলটি এখন রাজ্য অ্যাসেম্বলিতে পাঠানো হবে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির শূন্য হওয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উইনার জানান, গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই বিল সমর্থন করবেন কি না বা আইনসভা পাস করলে তাতে স্বাক্ষর করবেন কি না—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এই বিলের পেছনে আরেকটি ঘটনা ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপত্তাকর্মী জর্জ রেটেস জুনিয়রের আটক। গত জুলাইয়ে ক্যামারিলোতে এক অভিযানের পর তাকে আটক করা হয়। মার্কিন নাগরিক ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য রেটেস অভিযোগ করেন, তাকে তিন দিন ধরে ফোন বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে আটকে রাখা হয়। বর্তমান আইনে, যুক্তরাষ্ট্রের কোড সেকশন ১৯৮৩ অনুযায়ী রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা গেলেও ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের “বিভেন্স বনাম সিক্স আননোন ফেডারেল এজেন্টস” মামলার রায়ের ভিত্তিতে সীমিত সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট এই “বিভেন্স ডকট্রিন” ব্যবহারের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করেছে। আইনটির বিরোধীদের মধ্যে রয়েছে পিস অফিসার্স রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া, যা ৮৫ হাজারের বেশি জননিরাপত্তা কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের দাবি, এই আইন একাধিক পথে মামলা করার সুযোগ তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এলএবাংলাটাইমস/ওএম