প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবানল-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজের অনুমতির ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুততর করাই এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) এবং স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (SBA) প্রশাসককে এমন বিধিমালা প্রণয়ন ও সনদে স্বাক্ষরের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্মাণকারীরা “অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবন নির্মাণ মানদণ্ড” পূরণ করেছে বলে প্রত্যয়ন দেওয়া যায়। এই আদেশ কার্যকর হলে সাধারণত যেসব অনুমতি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আওতায় পড়ে, সেগুলো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, প্যালিসেডস ও ইটন দাবানলের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা পুনর্গঠনে ক্যালিফোর্নিয়া ও স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করছে। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্গঠন কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত লস এঞ্জেলেস কাউন্টি এবং লস এঞ্জেলেস, মালিবু ও পাসাডেনা শহর মিলিয়ে মোট ২,৯৮১টি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরও ২,৫৮৭টি আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। এসব অনুমতির দায়িত্ব মূলত শহর ও কাউন্টি সরকারগুলোর ওপরই থাকে, অঙ্গরাজ্য সরকারের নয়।
নির্বাহী আদেশে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ও লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসের নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করা হয়। আদেশে বলা হয়, “দাবানল প্রতিরোধ থেকে শুরু করে তা সামাল দেওয়া এবং পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে এটি আমেরিকার ইতিহাসে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম বড় ব্যর্থতা।”
এই আদেশ ঘিরে ট্রাম্প ও গভর্নর নিউজমের মধ্যে চলমান প্রকাশ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিউজমের দপ্তরের এক মুখপাত্র ট্রাম্পকে “অজ্ঞ ও বিভ্রান্ত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি মনে করেন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকার স্থানীয় পুনর্গঠন অনুমতি জারি করতে পারে।”
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ট্রাম্প এই সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো নেতৃত্ব বা সহমর্মিতা দেখাননি। তিনি একবার প্যালিসেডসে গিয়েছেন, কিন্তু আল্টাডেনাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এই কমিউনিটি এখনো ফেডারেল দুর্যোগ সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে।”
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে নিউজমের দপ্তর দাবি করে, পুনর্গঠনে মূল সমস্যা অনুমতির গতি নয়, বরং ফেডারেল অর্থায়নের অভাব। পোস্টে বলা হয়, “ফেডারেল সরকারকে অর্থ ছাড় দিতে হবে, স্থানীয় অনুমতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সমাধান নয়। সমস্যাটা হলো—কমিউনিটিগুলোর পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই।”
নিউজম উল্লেখ করেন, চলতি মাসের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দ্বিদলীয় একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে লস এঞ্জেলেস কাউন্টির পুনর্গঠনে ফেডারেল অর্থায়ন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র সিবিএস লস এঞ্জেলেসকে দেওয়া বিবৃতিতে নিউজমের নেতৃত্বকে “চরম ব্যর্থ” বলে অভিহিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ধ্বংস হওয়া ৬,৫০০ বাড়ির মধ্যে মাত্র আটটি পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অনুমতির গতি অত্যন্ত ধীর।
লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস এই নির্বাহী আদেশকে “অর্থহীন রাজনৈতিক কৌশল” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট তার কাজ সামলান, আমরা আমাদের কাজ করছি। প্যাসিফিক প্যালিসেডসে ৪৫০টির বেশি বাড়িতে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং আগের তুলনায় অর্ধেক সময়ে পুনর্গঠন পরিকল্পনার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।”
মেয়র বাস জানান, পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত ঘরে ফেরাতে তিনি স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম