লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে চলতি বছরে হামে আক্রান্ত পঞ্চম রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শনিবার নিশ্চিত করেছেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করে ফেরা এক বাসিন্দার শরীরে হাম রোগ ধরা পড়েছে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৩৫৪-এ করে টম ব্র্যাডলি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল বি-তে পৌঁছান। সেদিন সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে যারা টার্মিনাল বি-তে অবস্থান করেছিলেন, তারা হাম ভাইরাসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সহযোগিতায় আক্রান্ত যাত্রীর কাছাকাছি বসা যাত্রীদের নিজ নিজ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা ওই সময় ও স্থানে ছিলেন, তাদের সংস্পর্শে আসার ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে হাম রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই সবার উচিত তারা হামের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষিত কি না, তা নিশ্চিত করা।
যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা সুপারিশকৃত হামের টিকা নিয়েছেন, তারা সাধারণত সুরক্ষিত থাকেন। তবে তাদেরও সতর্ক থাকতে এবং উপসর্গের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। সংস্পর্শের ২১ দিন পরও যদি কোনো উপসর্গ না দেখা যায়, তবে আর ঝুঁকি থাকে না। এ ক্ষেত্রে উপসর্গ পর্যবেক্ষণের শেষ দিন ৪ জুন ২০২৬।
যেসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট রোগী ও কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে। একই সঙ্গে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ আরও সম্ভাব্য সংস্পর্শস্থল শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হামের সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর, কাশি, চোখ লাল হয়ে পানি পড়া এবং মাথা থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ফুসকুড়ি। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার প্রায় চার দিন আগ থেকেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।
যাদের মনে হচ্ছে তারা হামে আক্রান্ত হতে পারেন, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে আগে ফোনে যোগাযোগ করে তারপর হাসপাতালে বা ক্লিনিকে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম