লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া সামিট দাবানল (Summit Fire) দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত আগুনে ২ হাজার ৬৭৭ একর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং এর নিয়ন্ত্রণের হার শূন্য শতাংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে লস এঞ্জেলেস ও সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির সীমান্তের কাছে জেসাস ক্যানিয়ন রোড ও ইস্ট অ্যাভিনিউ জেড এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে মাত্র ৮ একর ঝোপঝাড়ে আগুন লাগলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অ্যাঞ্জেলেস ন্যাশনাল ফরেস্টে প্রবেশ করে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী আকাশ ও স্থলপথে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। প্রায় এক ডজন হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ থেকে আগুনের ওপর পানি ফেলা হচ্ছে। পানি সংগ্রহের জন্য হেলিকপ্টারগুলো একটি অ্যাকুয়েডাক্ট ব্যবহার করছে। আগুন নেভানোর কাজে অন্তত একটি সামরিক সি-১৩০ উড়োজাহাজও অংশ নিয়েছে।
দাবানলের কারণে আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদের নির্দেশ ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ মানুষ সরাসরি উচ্ছেদ আদেশ বা সতর্কতার আওতায় রয়েছেন।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের জন্য ল্যাঙ্কাস্টারের অ্যান্টিলোপ ভ্যালি ফ্যামিলি ওয়াইএমসিএ-তে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া ছোট প্রাণীদের জন্য পালমডেলের লস এঞ্জেলেস কাউন্টি অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারে আলাদা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আগুনের দক্ষিণে অবস্থিত এওয়াইএফ ক্যাম্প থেকে সব শিশু ও তত্ত্বাবধায়কদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা পাহাড়ের নিচ থেকে আগুন ধীরে ধীরে উঁচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আগুন রাইটউড এলাকার দিকে এগিয়ে যাওয়ায়। এর আগে ওই এলাকায় আরেকটি দাবানলে প্রায় ১০০টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামিট দাবানলে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের পথের মধ্যে এখনও বেশ কিছু বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।
এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি ছোট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দাবানলের ধোঁয়ার কারণে সাউথ কোস্ট এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিস্ট্রিক্ট এবং লস এঞ্জেলেস কাউন্টি জনস্বাস্থ্য বিভাগ ধোঁয়া–সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। এই সতর্কতা শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম