লস এঞ্জেলেস

শিশুদের বিরল ক্যানসারের রহস্য: তদন্তের দাবিতে অরেঞ্জ কাউন্টিতে বিক্ষোভ

ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির লাদেরা র‍্যাঞ্চ এলাকায় একের পর এক শিশুর বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ জানতে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে শত শত বাসিন্দা এক কমিউনিটি সভায় অংশ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেছেন। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ২৬ হাজার জনসংখ্যার লাদেরা র‍্যাঞ্চ এলাকায় অন্তত নয়জন শিশু বিরল ধরনের ইউইং সারকোমা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে। এই ক্যানসার সাধারণত শিশু ও তরুণদের হাড় বা নরম টিস্যুতে দেখা যায়। মঙ্গলবার লাদেরা র‍্যাঞ্চ মিডল স্কুলে অনুষ্ঠিত সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন বক্তব্য দেন। তাদের অভিযোগ, এলাকায় ব্যবহৃত বিষাক্ত কীটনাশক বা আগাছানাশক এই ক্যানসারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সভায় বক্তব্য দেন ব্রায়ান ডালটন, যিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২৩ বছর বয়সী মেয়ে লিলি ডালটনকে হারিয়েছেন। কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার মাত্র তিন দিন পর লিলির শরীরে ডেসমোপ্লাস্টিক স্মল রাউন্ড সেল টিউমার (ডিএসআরসিটি) ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই ক্যানসারে ইউইং সারকোমার মতো একই ধরনের জিনগত পরিবর্তন দেখা যায়। ব্রায়ান বলেন, “আমি চাই না আর কোনো মা তার সন্তানের হাত ধরে বছরের পর বছর চিকিৎসা করাতে বাধ্য হন, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার বদলে সন্তানের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেন।” আরেক বাসিন্দা কারি বেরি জানান, তার স্বামী ব্রেট বেরি স্থানীয় শিশুদের খেলাধুলার কোচিং করাতেন এবং দীর্ঘ সময় মাঠে কাটাতেন। তিনি দাবি করেন, মাঠে নিয়মিত কীটনাশক ছিটানোর কারণে তার স্বামী প্রতিদিনই বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসায়লি পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ)-কে সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি হেলথ কেয়ার এজেন্সি জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া ক্যানসার রেজিস্ট্রি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের ক্যানসার সেন্টার এবং অরেঞ্জ কাউন্টির কৃষি কমিশনারের কার্যালয় যৌথভাবে ক্যানসারের তথ্য বিশ্লেষণ করছে। অরেঞ্জ কাউন্টির সুপারভাইজার ক্যাটরিনা ফোলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এখনো ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে অনেক বাসিন্দা এলাকায় আগাছানাশক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এ কারণে কাউন্টির আবাসিক এলাকায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে এখন রাসায়নিকের পরিবর্তে বাষ্প ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আপাতত লাদেরা র‍্যাঞ্চ এলাকায় বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিছু বাসিন্দা আরও দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন এলাকায় বসবাসের পর তাদের পোষা প্রাণীরও বিরল ধরনের ক্যানসার ধরা পড়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং এখন পর্যন্ত ক্যানসারের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনো পরিবেশগত কারণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। এলএবাংলাটাইমস/ওএম