যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন ২৭ বছর বয়সী জেমস ওয়্যার, যিনি অরেঞ্জ কাউন্টির পরিচিত কার ইনফ্লুয়েন্সার এবং জনপ্রিয় গাড়ি প্রদর্শনী ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে ইরভাইনের কালভার ড্রাইভ ও ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ইরভাইন পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালের একটি ম্যাকলারেন গাড়ি কালভার ড্রাইভ দিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিল। ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজ হওয়ার পর চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি ডানদিকে চলে গিয়ে একটি কার্বে ধাক্কা খায় এবং পরে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে।
ধাক্কার তীব্রতায় ম্যাকলারেনটি দুই টুকরো হয়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভান। পরে গাড়ির ভেতর থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকালে ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জেমস ওয়্যারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাকে পরিবারের প্রিয় সন্তান ও ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়।
জেমস তার বাবা সাইমন ওয়্যারের সঙ্গে মিলে ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’ আয়োজন করতেন। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক গাড়ি প্রদর্শনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমদিকে সান ক্লেমেন্টের একটি টার্গেট স্টোরের পার্কিং এলাকায় এই আয়োজন শুরু হয়েছিল। জনপ্রিয়তা বাড়ার পর এটি সান ক্লেমেন্টের আউটলেটস এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত গাড়ি অংশ নিত। এতে হাইপারকার, সুপারকার, ভিনটেজ ও ক্লাসিক গাড়ির পাশাপাশি স্পোর্টস কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন প্রদর্শন করা হতো।
জেমসের মা সারাহ ওয়্যারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুতে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি ছেলের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তার হাসি, বন্ধুত্ব ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন।
তবে দুর্ঘটনার সময় ম্যাকলারেনটি কে চালাচ্ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জেমস ওয়্যারের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি। নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয়ও জানানো হয়নি।
ইরভাইন পুলিশ বিভাগের মেজর অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। দুর্ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডেভিড জুয়ারেজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।