লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসে বাড়ি কেনা মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে লস এঞ্জেলেসে বাড়ির মালিক হওয়া ক্রেতাদের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বাড়ির দামের তুলনায় স্থানীয় পরিবারের আয় অনেক কম হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক আয়ে একটি বাড়ির মর্টগেজ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন এক আবাসন মূল্যায়নে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত Realtor.com-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার আবাসন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণ—এই দুই সূচকের ভিত্তিতে করা মূল্যায়নে লস এঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটি পেয়েছে ‘এফ’ গ্রেড এবং মোট ১০০-এর মধ্যে ১২ পয়েন্ট। লস এঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলার। অন্যদিকে একই এলাকার মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় প্রায় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। বাড়ির দামের সঙ্গে আয়ের এই বড় ব্যবধান স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য আবাসন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৩০ বছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের হারে মর্টগেজ নিলে মাসিক কিস্তি পরিশোধে একজন মধ্যম আয়ের ক্রেতার আয়ের প্রায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হতে পারে। অথচ আবাসন ব্যয় পরিবারের আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিকে সাধারণভাবে সাশ্রয়যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাসিক মর্টগেজ খরচকে ওই ৩০ শতাংশের সীমার মধ্যে আনতে লস এঞ্জেলেসে বাড়ির মূল্যের প্রায় ৬৮ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। ফলে বাড়ি কেনার আগে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করাও অনেক পরিবারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লস এঞ্জেলেসের আবাসন সমস্যার সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের সীমিত গতিও জড়িত। জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। Realtor.com-এর হিসাব অনুযায়ী, মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির অনুমোদনের অনুপাত ০ দশমিক ৪৭। অর্থাৎ বিদ্যমান বাড়ির দাম যেমন বেশি, তেমনি চাহিদার তুলনায় নতুন আবাসন যুক্ত হওয়ার গতিও কম। উচ্চমূল্য ও সীমিত সরবরাহ—দুই দিক থেকেই ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। লস এঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে এমন চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে মোট ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা ‘এফ’ গ্রেড পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি ও রিভারসাইড। লস এঞ্জেলেসের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন সংকটের সঙ্গেও সম্পর্কিত। Realtor.com-এর হিসাবে, দেশজুড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় নতুন বাড়ি কম তৈরি হওয়ায় অনেক এলাকায় বাড়ির দাম ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। Realtor.com-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসনকে আরও সাশ্রয়যোগ্য করতে হলে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, যেসব মেট্রো এলাকায় স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে আবাসন পরিস্থিতি ভিন্ন। লস এঞ্জেলেসের বিপরীতে আইওয়ার ডেস ময়নেস এই মূল্যায়নে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার। মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক মর্টগেজ ব্যয়ের চাপ প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালে এলাকাও নতুন বাড়ি নির্মাণের তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, কোনো এলাকার আবাসন পরিস্থিতি নির্ধারণে শুধু বাড়ির দাম নয়, স্থানীয় মানুষের আয় এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের গতিও গুরুত্বপূর্ণ। Realtor.com-এর ২০২৬ সালের মূল্যায়নে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহ—দুই বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ির দাম কত, শুধু সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় দিয়ে সেই বাড়ি কেনা কতটা সম্ভব এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে নতুন বাড়ি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ।