লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (LAX) বহুল প্রতীক্ষিত স্বয়ংক্রিয় ট্রেন প্রকল্প সাত বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ২ দশমিক ২৫ মাইল দীর্ঘ এই ট্রেন চালু হলে বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলোর সঙ্গে পার্কিং এলাকা, ভাড়ার গাড়ি কেন্দ্র এবং মেট্রো স্টেশনকে যুক্ত করার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সাত বছর পরও যাত্রীদের জন্য ট্রেনটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
‘স্কাইলিংক’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। তখন ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রেন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এরপর কয়েক দফা সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়।
সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে ট্রেনটি যাত্রীসেবা শুরু করতে পারে। তবে এই সময়সীমাও নিশ্চিত নয়। প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান LINXS জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
ট্রেনটিতে ছয়টি স্টেশন থাকবে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের মধ্যে যাত্রীদের দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানোই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। বিমানবন্দরের আশপাশের সড়কে যানজট কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির ব্যয়ও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। শুরুতে প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরিবর্তন, অতিরিক্ত কাজ ও অন্যান্য কারণে ব্যয় প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্মাণে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে LINXS লস এঞ্জেলেস শহরের বিরুদ্ধে মামলা করে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও কাজের পরিধিতে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণকাজ জটিল হয়েছে এবং সময় ও ব্যয় বেড়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
বর্তমানে ট্রেনটির বিভিন্ন অংশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। যাত্রীসেবা শুরুর আগে টানা ৩০ দিনের সফল পরীক্ষা, স্বাধীন পর্যালোচনা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। ইউটিলিটি সংক্রান্ত কিছু কাজও বাকি রয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আগে চালু করার আশা ছিল। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। এখন ২০২৭ সালের শুরুতে ট্রেনটি চালু করা গেলে ২০২৮ সালের লস এঞ্জেলেস অলিম্পিকের আগে বিমানবন্দরের পরিবহন ব্যবস্থায় এটি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে সাত বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের পরও প্রকল্পটির নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে মাত্র দুই মাইলের কিছু বেশি দীর্ঘ এই বিমানবন্দর ট্রেনটি কবে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন শুরু করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।