ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে করা কর্মক্ষেত্রের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইউসিএলএর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন্স বিভাগের ভাইস চ্যান্সেলর মেরি ওসাকো বুলিং, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না করার জন্য মামলা করেছেন।
ওসাকো ২৬ আগস্ট ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বোর্ড অব রিজেন্টসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পেশাগত সুনামের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে এমন কিছু অভিযোগ ও তথ্য রয়েছে, যেগুলোর অনেকটাই বিতর্কিত এবং যেগুলো প্রকাশ করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ইউসিএলএ সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মীর অভিযোগের পর একটি স্বাধীন আইন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তদন্ত করায়। তদন্ত শেষে তৈরি করা ২৬৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কর্মীদের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেন, ওসাকো কর্মীদের ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা কর্মীদের শাস্তি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের মুখে পড়তে হতো এবং কিছু ক্ষেত্রে বাইরের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল।
কর্মীদের অভিযোগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। আদালতের নথিতে কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ওসাকোর সাবেক কর্মস্থলের পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে একই ধরনের কাজের জন্য একাধিক বাইরের প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসাকোর আইনজীবীরা বলেছেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসব দাবির অনেকগুলো প্রতিফলিত হয়নি।
ওসাকো নিজেও অভিযোগগুলোর অনেক অংশ অস্বীকার করেছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের কারণে তাকে এখন পর্যন্ত বরখাস্ত, পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। তার আইনজীবী আরও বলেছেন, প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ওসাকোর পেশাগত সুনামের যে ক্ষতি হবে, তা পরে পুরোপুরি সংশোধন করা কঠিন হতে পারে।
এদিকে অভিযোগকারী কর্মীদের আইনজীবীরা প্রতিবেদনটি প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের যুক্তি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের অভিযোগের তদন্ত হলে সেই তথ্য জনসাধারণের জানার অধিকার রয়েছে। তারা ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক রেকর্ডস আইনের আওতায় প্রতিবেদনটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক কার্টিস এ. কিন মঙ্গলবারের শুনানিতে প্রতিবেদনটি নিজে পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়ার কথা জানান। আদালত ইউসিএলএ ও ওসাকোর আইনজীবীদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদনের কপি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে। ততদিন তদন্ত প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ না করার আদেশ বহাল থাকবে।
ওসাকো ২০১৯ সাল থেকে ইউসিএলএর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন্স বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক কর্মীর সঙ্গে যুক্ত একটি বড় যোগাযোগ ও বিপণন কার্যক্রম তদারক করেন। ইউসিএলএ চ্যান্সেলর জুলিও ফ্রেঙ্ক তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা কর্মীদের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং এ বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় স্বাধীন তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।