লস এঞ্জেলেস

পর্যটন কমছে, ব্যবসা হারাচ্ছে গতি: সান্তা মনিকার সংকট কোথায়

একসময় লস এঞ্জেলেসের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী গন্তব্যগুলোর একটি ছিল সান্তা মনিকা। বিখ্যাত পিয়ার, সমুদ্রসৈকত, দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ ঘিরে প্রতিদিনই জমজমাট থাকত শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। শহরের কিছু এলাকায় ব্যবসা কমেছে, দোকান খালি পড়ে আছে এবং পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতিও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে কাছের বেভারলি হিলস ও ওয়েস্ট হলিউড তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিলাসবহুল কেনাকাটা, রেস্তোরাঁ, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্রিক ব্যবসার কারণে এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা এখনও শক্তিশালী। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একই অঞ্চলের শহরগুলোর মধ্যে সান্তা মনিকা কেন পিছিয়ে পড়ছে? এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। করোনা মহামারির পর মানুষের চলাচল ও ভ্রমণের ধরন বদলে গেছে। একই সঙ্গে দূর থেকে কাজ করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অফিসকেন্দ্রিক এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন এসেছে। সান্তা মনিকার ডাউনটাউন ও থার্ড স্ট্রিট প্রোমেনাডের মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলো এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করেছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করেছে দোকানের ভাড়া, শ্রম ব্যয় ও পরিচালন খরচ। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর খালি দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। এতে পথচারী কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নিরাপত্তা ও গৃহহীনতার বিষয়টিও সান্তা মনিকার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। শহরের কিছু এলাকায় গৃহহীন মানুষের উপস্থিতি এবং মাদক ব্যবহারসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও এসব সমস্যার মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য এক নয়, তবু ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে মানুষের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সান্তা মনিকার সবকিছুই যে খারাপ, এমন নয়। শহরের সমুদ্রসৈকত, পিয়ার, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটন আকর্ষণ এখনো বড় সম্পদ। স্থানীয় কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক এলাকা পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন ব্যবসা আকৃষ্ট করা এবং পর্যটকদের আরও বেশি সময় শহরে রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সান্তা মনিকার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো পর্যটননির্ভর মডেলের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। বেভারলি হিলস ও ওয়েস্ট হলিউড যেভাবে উচ্চমানের খাবার, কেনাকাটা, বিনোদন ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটনকে কাজে লাগিয়েছে, সান্তা মনিকাকেও তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে নতুন করে দর্শনার্থী ও ব্যবসা আকর্ষণ করতে হবে। ফলে ‘সান্তা মনিকার কী হলো’—এই প্রশ্নের উত্তর একক কোনো কারণে পাওয়া যাবে না। মহামারি-পরবর্তী পরিবর্তন, ব্যবসায়িক চাপ, পর্যটনের ধরন বদলে যাওয়া এবং শহরের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবেই সান্তা মনিকার বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এখন শহরটির সামনে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে তার সমুদ্রতীরের পুরোনো আকর্ষণকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে আবারও জমজমাট করে তোলা যায়।