দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ দুই কিশোরের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। লস এঞ্জেলেসের একটি এলাকায় তারা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দুই কিশোরের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ হয়নি। তাদের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা তাদের পরিচিতজন, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং যেসব এলাকায় তাদের দেখা যেতে পারে, সেসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
ডেপুটিরা জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে লস এঞ্জেলেসের একটি নির্দিষ্ট এলাকার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সেখানে দুই কিশোরের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তারা বর্তমানে ওই এলাকায় আছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কেউ নিখোঁজ কিশোর দুজনকে দেখতে পেলে নিজেরা তাদের অনুসরণ বা মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা না করে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। নিখোঁজ অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যভান্ডারেও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, কারও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। পাশাপাশি ১-৮০০-২২২-ফাইন্ড নম্বরে তথ্য দেওয়া যায়।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ কিশোরদের সন্ধানে এর আগেও বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। চলতি বছরের মার্চে ‘অপারেশন সেফ রিটার্ন’ নামে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ৩৭ শিশুকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল। অভিযানে একাধিক সংস্থা অংশ নেয় এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর সময় যত বাড়ে, দ্রুত তথ্য পাওয়ার গুরুত্ব ততই বেড়ে যায়। তাই দুই কিশোরকে কোথাও দেখা গেলে বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।
এদিকে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই কিশোরকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।