লস এঞ্জেলেস

বাবাকে দিয়ে ১৪ বছরের মেয়েকে নি র্যাতন ও গর্ভবতী করার ঘটনায় গ্রে প্তার মা

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবা যৌ ন নি র্যাতন করে গর্ভবতী করার অভিযোগের তদন্তে এবার তার মাকেও গ্রে প্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কিশোরীর সদ্যোজাত সন্তানকে মৃ ত অবস্থায় উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরে তদন্তে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মন্টেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগাকে সালিনাস সুপিরিয়র কোর্টহাউস থেকে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের দুটি গুরুতর অভিযোগ এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলা ও অপ্রাপ্তবয়স্কের অপরাধপ্রবণতায় সহায়তার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ১ আগস্ট। মন্টেরি কাউন্টির একটি কৃষি এলাকার কাছে স্ট্রুভ রোডের পাশে একটি নবজাতককে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিশুটিকে ‘বেবি অ্যাঞ্জেলিটা’ নামে উল্লেখ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় নবজাতকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে পরে জানা যায়, শিশুটির মা ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কিশোরীটি তার জৈবিক বাবার যৌ ন নি র্যাতনের শিকার হয়েছিল এবং ওই ব্যক্তিই শিশুটির বাবা। সে সময় কিশোরীকে নিখোঁজ হিসেবেও খোঁজা হচ্ছিল। পরে তার সন্ধানে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হয়। কিশোরীর বাবা ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেজ পেরেজ। গত সপ্তাহে মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া অঙ্গরাজ্যের জানোস এলাকায় মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ কিশোরী ও তার বাবাকে খুঁজে পায়। কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও পেরেজকে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইনসেস্ট, শিশুর ওপর যৌ ন নি র্যাতন এবং শিশু নি র্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা কিশোরীর মা ওর্তেগার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটির বয়স ১৩ বছর হওয়ার পর তাকে কৃষিক্ষেতে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল। এ কাজে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটিকে লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাতে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় স্কুলের বাইরে রাখার অভিযোগও তদন্তে এসেছে। ওর্তেগাকে এর আগে আগস্ট মাসেও শিশু বিপন্ন করার সন্দেহে গ্রে প্তার করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে তিনি মুক্তি পান। মঙ্গলবারের নতুন গ্রে প্তারের পর তাকে মন্টেরি কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এবার তার বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এদিকে নবজাতকের মৃ ত্যুর সঙ্গে কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে আলাদা কোনো হো মি সাইড অভিযোগ এখনো দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন এবং আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরী বর্তমানে মেক্সিকোর শিশু সুরক্ষা সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। তাকে এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নয়, বরং বাবার যৌ ন নি র্যাতনের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা, কিশোরীর দীর্ঘদিনের পরিস্থিতি এবং নবজাতকের মৃ ত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করছে।