লস এঞ্জেলেস

সমুদ্রের তাপমাত্রা বদলাতেই দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আসছে অচেনা সব সামুদ্রিক প্রাণী

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে দেখা মিলছে এমন সব সামুদ্রিক প্রাণীর, যাদের সাধারণত এ অঞ্চলের পানিতে খুব একটা দেখা যায় না। প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি ও শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী উপকূলের কাছাকাছি চলে আসছে। এতে জেলেদের পাশাপাশি অবাক হচ্ছেন সমুদ্রপ্রেমী ও পর্যটকেরাও। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অরেঞ্জ কাউন্টি থেকে মালিবুর উপকূল পর্যন্ত তিমি হাঙর, হাতুড়িমুখী হাঙর, ডেভিল রে, ওয়াহু ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখা গেছে। সাধারণত এসব প্রাণীর অনেকগুলো আরও উষ্ণ পানিতে বিচরণ করে। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাদের কিছু অংশ এখন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার জলসীমায় চলে আসছে। মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির সঙ্গে উপকূলের কাছাকাছি দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ যুক্ত হয়েছে। এ দুই পরিস্থিতি মিলে এমন পরিবেশ তৈরি করেছে, যা উষ্ণ পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের উত্তর দিকে সরে আসতে উৎসাহিত করছে। তবে কোন প্রাণী কত দিন এ অঞ্চলে থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। পানি ঠান্ডা হতে শুরু করলে অনেক প্রজাতি আবার দক্ষিণের দিকে চলে যেতে পারে। এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বিনোদনমূলক মাছ ধরার ব্যবসা। দীর্ঘ দুই বছর প্রায় কোনো ইয়েলোফিন টুনা না পাওয়ার পর এ বছর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মাছ ধরার নৌকাগুলোতে হাজার হাজার টুনা ধরা পড়ছে। ডানা ওয়ার্ফ স্পোর্টফিশিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাদের নৌকাগুলোতে মাত্র দুটি ইয়েলোফিন টুনা ধরা পড়েছিল। অথচ এ বছর ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে ৫ হাজার ৮০০টিরও বেশি। পাশাপাশি ১৫০টির বেশি মাহি-মাহি মাছও পাওয়া গেছে। তবে মাছের প্রাচুর্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্রের সময় একই ধরনের মাছ বিপুল সংখ্যায় ধরা পড়েছিল। এবারও তেমন প্রত্যাশা থাকলেও মাছ ধরার পরিমাণ সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মৎস্যবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের তুলনায় এ বছর বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী মাছ ধরার নৌকায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম মানুষ মাছ ধরতে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক কারণে মাছ ধরার কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং সমুদ্রের ভিন্ন পরিস্থিতি—দুটিই এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ পানি সামুদ্রিক প্রাণীদের চলাচলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে শুধু এল নিনোকেই সব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সমুদ্রের তাপমাত্রা, খাদ্যশৃঙ্খল এবং মাছ ধরার কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। জেলেদের জন্য এ বছর নতুন প্রজাতির মাছ দেখার সুযোগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার দেখে সমুদ্রে মাছের প্রাচুর্য সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। উপকূলের পরিবেশে পরিবর্তন স্পষ্ট হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।