লস এঞ্জেলেস

আইসিইর অভিযান ও প্যালিসেডসের আগুন নিয়ে বিতর্ক, মেয়র পদে শেষ লড়াইয়ে বাস-রামানের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনের শেষ টেলিভিশন বিতর্কে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন বর্তমান মেয়র কারেন বাস ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নগর কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রামান। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক ঘণ্টার এ বিতর্কে পুলিশপ্রধানের ভবিষ্যৎ, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, প্যালিসেডসের ভয়াবহ দাবানল এবং নগর প্রশাসনের নেতৃত্ব নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করেন তাঁরা। আগামী ৩ নভেম্বরের রানঅফ নির্বাচনের আগে এটিই ছিল তাঁদের শেষ সরাসরি টেলিভিশন বিতর্ক। বিতর্কের সবচেয়ে উত্তপ্ত বিষয় ছিল লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডোনেলের পদ। রামান অভিযোগ করেন, শহরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) অভিযানের সময় পুলিশ বিভাগ ফেডারেল কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। এ কারণে ম্যাকডোনেলকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানান তিনি। তবে ম্যাকডোনেলকে ঠিক কবে সরানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি রামান। তাঁর ভাষ্য, পুলিশপ্রধানকে অপসারণের বিষয়টি শুধু মেয়রের একক সিদ্ধান্ত নয়; পুলিশ কমিশন এবং নগর কাউন্সিলেরও ভূমিকা রয়েছে। জবাবে বাস বলেন, ২০২৮ সালের অলিম্পিকের আগে পুলিশপ্রধান পরিবর্তন করলে বিভাগে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তাঁর দাবি, নতুন পুলিশপ্রধান খুঁজে নিয়োগ দেওয়া জটিল প্রক্রিয়া। রামান এ দায়িত্বের চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি বোঝেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দুই প্রার্থীর বিরোধের আরেকটি বড় বিষয় ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্যালিসেডস দাবানল মোকাবিলায় মেয়রের ভূমিকা। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় দেশের বাইরে থাকায় বাসের সমালোচনা করেন রামান। তিনি বলেন, সংকটের সময় নগরবাসী বারবার জানতে চেয়েছেন, তাঁদের মেয়র কোথায়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন রামান। জবাবে বাস ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আগুনে প্রাণহানি ও বাড়িঘর হারানোর ঘটনা তাঁকে প্রতিনিয়ত ভাবায়। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া সহজ করতে তাঁর প্রশাসন কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিতর্কে একে অপরের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দুই প্রার্থী। বাসের অভিযোগ, রামান নগর প্রশাসনে সহকর্মীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন না। অন্যদিকে রামান বলেন, শহরটি অব্যবস্থাপনা ও অজুহাতের কারণে পিছিয়ে পড়ছে। গত ২ জুনের প্রাথমিক নির্বাচনে বাস ৩৪ শতাংশ এবং রামান ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষ দুই প্রার্থী হিসেবে রানঅফে ওঠেন। এবার তাঁদের সামনে চ্যালেঞ্জ—নগরবাসীর আস্থা অর্জন করে আগামী চার বছরের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।