ক্যালিফোর্নিয়ায় বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিমায় সরকারি সহায়তা বাড়ানো এবং বাসা থেকে কাজের সুযোগে নমনীয়তা নিশ্চিত করার দাবিতে এক দিনের ধর্মঘটে নেমেছেন হাজারো সরকারি কর্মী। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রশাসন নতুন কর্মচুক্তি নিয়ে আলোচনায় আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর কর্মীরা ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন।
ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারি কর্মীদের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ) লোকাল ১০০০। সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা প্রায় এক লাখ। তাঁদের মধ্যে সরকারি দপ্তরের অফিসকর্মী, নার্স, হিসাবরক্ষক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও বিভিন্ন সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা রয়েছেন। সংগঠনটির ইতিহাসে এটি প্রথম রাজ্যব্যাপী ধর্মঘট।
কর্মীদের মূল দাবি, আগামী তিন বছরে মোট ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় মেটাতে সরকারের অবদান বাড়ানো এবং বাসা থেকে কাজের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা। তাঁদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, শিশুর যত্ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে অনেক কর্মীর পক্ষে সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি আনিকা ওয়ালস বলেছেন, কর্মীরা ধর্মঘটকে হালকাভাবে নেননি। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি কর্মীদের এমন বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত, যাতে তাঁরা নিজেদের পরিবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের ব্যয় নির্বাহ করতে পারেন।
কর্মীদের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধের অন্যতম বড় কারণ বাসা থেকে কাজের নীতি। নিউজমের নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন অফিসে উপস্থিত থাকার নিয়ম কার্যকর হয়েছে। মহামারির সময় বাসা থেকে কাজের সুযোগ চালু হওয়ার পর অনেক কর্মী সেই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মতে, সব ধরনের সরকারি কাজের জন্য প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত থাকা জরুরি নয়।
কর্মীদের যুক্তি, কাজের ধরন অনুযায়ী দূরবর্তী কাজের সুযোগ নির্ধারণ করা হলে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে এবং কর্মীদের যাতায়াতের ব্যয় ও সময় কমবে। একটি রাজ্য নিরীক্ষায়ও বেশি দূরবর্তী কাজের সুযোগ রাখলে বছরে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে, নিউজমের প্রশাসনের যুক্তি, অফিসে সরাসরি উপস্থিত থাকলে কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ বাড়ে।
দূরবর্তী কাজের নীতি নিয়ে বিরোধ আরও বেড়েছে গত মাসে নিউজম একটি দ্বিদলীয় সমর্থনপুষ্ট বিলে ভেটো দেওয়ার পর। ওই বিলে প্রতিটি সরকারি দপ্তরকে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতার পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গভর্নরের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কর্মীরা মনে করছেন, এতে দপ্তরভিত্তিক নমনীয় কর্মব্যবস্থার সম্ভাবনা আরও সীমিত হয়েছে।
নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল আগের চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ার পর। ইউনিয়নের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি এবং আলোচনায় সদিচ্ছার অভাব দেখিয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া মানবসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, তারা ন্যায্য ও দায়িত্বশীল সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং আলোচনার টেবিলে থাকতে প্রস্তুত।
ধর্মঘটের কারণে মোটরযান বিভাগ, বেকার ভাতা-সংক্রান্ত দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় বিলম্ব বা সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে প্রায় পাঁচ হাজার জরুরি কর্মীকে ধর্মঘটের বাইরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, পরিবহন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবার কিছু কর্মীকে কাজে যোগ দিতে হয়েছে।
এই ধর্মঘট এমন এক সময়ে হলো, যখন নিউজমের প্রশাসনের মেয়াদের শেষ পর্যায় ঘনিয়ে আসছে। বেতন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বিরোধের সমাধান না হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মীদের সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। এখন নজর নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি এবং কর্মীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকে।