লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেনের পণ্য চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯, সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি পুলিশের

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মালবাহী ট্রেন থেকে পণ্য চুরির ঘটনায় সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক বছর ধরে চলা তদন্তের পর গত ১৬ অক্টোবর সান বার্নার্ডিনো শহরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফ বিভাগ। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে বার্লিংটন নর্দার্ন সান্তা ফে রেলওয়ে বা বিএএনএসএফের ট্রেন থেকে সংগঠিতভাবে পণ্য চুরির একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা কয়েকজন এবং তাঁদের ব্যবহৃত একাধিক যানবাহন শনাক্ত করেন। এসব ঘটনায় চুরি হওয়া সম্পদের মূল্য কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে শেরিফ বিভাগ। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৬ অক্টোবর সান বার্নার্ডিনোর ইস্ট ৩৫তম স্ট্রিটের ১২০০ ব্লকের একটি বাড়িতে তল্লাশির পরোয়ানা কার্যকর করা হয়। সেখানে মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চলের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাঁরা রেলপথে পণ্য চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ২৪ বছর বয়সী হোসে নাভারেতে, ২৭ বছর বয়সী ব্রায়ান ইরান ফন্তেস-ক্যারিলো, ৩০ বছর বয়সী মাউরো রুইজ-মেদিনা, ৪৩ বছর বয়সী পাস্তর পেনা-লেরমা, ২৪ বছর বয়সী আলফ্রেদো কোভাররুবিয়াস-নাভারেতে, ২৪ বছর বয়সী হোসে আলফ্রেদো কাস্তিয়ো-বাকা, ১৮ বছর বয়সী হোসে ইসমায়েল পালাফক্স-বেরনাল, ৩১ বছর বয়সী সিজার দানিয়েল নাভারেতে-মার্তিনেজ এবং ২৩ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ান এরুবিয়েল নাভারেতে-সাপিয়েন। শেরিফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নয়জনই মেক্সিকোর বাসিন্দা। অভিযানে তিন লাখ ডলারের বেশি মূল্যের চুরি হওয়া খুচরা পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে জেবিএল ব্র্যান্ডের স্পিকার, লজিটেকের কম্পিউটার সরঞ্জাম, ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের পণ্য, নাইকি ও নিউ ব্যালান্সের জুতা এবং হাস্কি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সরঞ্জাম। তল্লাশির সময় চারটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, একটি ড্রোন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ট্রেনের পণ্যবাহী কনটেইনারে প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ড্রোনটি নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন থেকে পণ্য চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা ফেন্টানিল নামের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রসহ নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার অভিযোগও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। শেরিফ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের সম্পত্তি চুরি, অপরাধে ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্রসহ নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার সন্দেহে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তাঁদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের বিষয়ে কারও কাছে তথ্য থাকলে সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া উই-টিপের ৮৪৪-৯০৯-৩০০৬ নম্বরেও তথ্য জানানো যাবে।