ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়াতে আনা প্রস্তাব ৩৭ পাস হয়েছে। তবে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে ১১.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব ১-এর ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাব ৩৭ অনুমোদন করেছেন ভোটাররা। অন্যদিকে, প্রস্তাব ১-এর পক্ষে এখন পর্যন্ত ৫৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে আনুমানিক ৪২ শতাংশ ব্যালট গণনা হওয়ায় এর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি।
দুটি প্রস্তাবের লক্ষ্যই ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন সংকট মোকাবিলা করা। তবে সেগুলোর পদ্ধতি আলাদা।
প্রস্তাব ৩৭ অনুযায়ী, রাজ্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে পারবে। সেই অর্থ যোগ্য বাড়ি ক্রেতাদের ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা বাড়ির ডাউন পেমেন্টের বড় অংশ পরিশোধ করতে পারেন।
এটি যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রথম রাজস্ব বন্ডভিত্তিক কর্মসূচি। তবে কীভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সমর্থকদের মতে, কর্মসূচিটি রাজ্যের করদাতাদের ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না।
প্রস্তাব ১-এর মাধ্যমে রাজ্য ১১.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে পারবে। এই অর্থের বড় অংশ নিম্ন আয়ের ভাড়াটিয়া এবং গৃহহীন মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব ১: সাশ্রয়ী আবাসনে বড় বিনিয়োগ
প্রস্তাব ১ পাস হলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে গৃহহীনতা বা আবাসন সংকটে থাকা মানুষদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
বাকি অর্থ বিভিন্ন আবাসন কর্মসূচিতে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের পরিবার ও ভেটেরানদের জন্য কম সুদের গৃহঋণ, কৃষিশ্রমিকদের আবাসন, শিক্ষার্থী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাসস্থান নির্মাণ এবং নতুন আবাসন পরিকল্পনায় শহরগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলো প্রস্তুত থাকলেও অর্থের অভাবে নির্মাণ শুরু করা যাচ্ছে না।
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের আবাসন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ ইউনিট নির্মাণ করা প্রয়োজন। সে তুলনায় প্রস্তাব ১-এর মাধ্যমে সম্ভাব্য নির্মাণসংখ্যা কম হলেও আবাসন সংকটে থাকা মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।
২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা ৪ বিলিয়ন ডলারের আবাসন বন্ড অনুমোদন করেছিলেন। সেই অর্থ প্রায় শেষ হয়ে আসায় নতুন অর্থায়নের জন্য আইনপ্রণেতা ও আবাসন খাতের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগ নিচ্ছিল।
প্রস্তাব ৩৭: বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টে সহায়তা
প্রস্তাব ৩৭ মূলত এমন ক্যালিফোর্নিয়াবাসীদের সহায়তার জন্য, যাঁদের আয় বাড়ি কেনার জন্য যথেষ্ট হলেও ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করা কঠিন।
কর্মসূচিটির পেছনে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এবং সাবেক ডেমোক্র্যাটিক অ্যাসেম্বলি স্পিকার বব হার্টজবার্গ।
তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, বেসরকারি অর্থায়নে দেওয়া ডাউন পেমেন্ট ঋণ সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন এমন ক্রেতাদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী হবে।
হার্টজবার্গের যুক্তি, ধনী দাতা, ফাউন্ডেশন ও দাতব্য সংস্থাগুলোকে রাজ্যকে বাজারদরের চেয়ে কম সুদে অর্থ দিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
প্রস্তাব ৩৭ পাস হওয়ায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের বাধা কমানোর নতুন কর্মসূচি চালুর পথ খুলেছে। তবে এর বাস্তবায়ন, ঋণের শর্ত এবং ক্রেতাদের জন্য প্রকৃত সুবিধা কতটা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিকল্পনার ওপর।
অন্যদিকে, প্রস্তাব ১-এর চূড়ান্ত ফলের জন্য ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।