আমেরিকা

স্পেনে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যা

স্পেনে নিজের স্ত্রীকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ফ্লোরিডাবাসী ব্যবসায়ীকে সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুর কারণ ‘আত্মহত্যা’ বলে ধারণা করা হচ্ছে, জানিয়েছেন তার আইনজীবী। ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ক্নেজেভিচ মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে বিচারপূর্ব আটক অবস্থায় ছিলেন। তিনি তার ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী আনা হেদাও ক্নেজেভিচ-কে অপহরণ ও হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। আনা গত ফেব্রুয়ারিতে মাদ্রিদে নিখোঁজ হন এবং এই মামলা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ডেভিডের আইনজীবী জেইন ওয়াইনট্রব বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে তার মক্কেলকে সেলের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, তবে কীভাবে তিনি মারা গেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

“এই খবর শুনে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত,” বলেন ওয়াইনট্রব। “আমরা আশা করি, এ বিষয়ে একটি যথাযথ ও দ্রুত তদন্ত হবে।” ফেডারেল ব্যুরো অফ প্রিজন্স জানায়, সোমবার সকাল ৮টার একটু পর ক্নেজেভিচকে তার সেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। কারাগারের কর্মীরা তাকে বাঁচানোর জন্য তৎপরতা চালান এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা এসে দায়িত্ব নেন। তবে শেষপর্যন্ত ক্নেজেভিচকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি এফবিআই এবং ইউএস মার্শাল সার্ভিস-কে জানানো হয়েছে। আনা ক্নেজেভিচ গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের মাদ্রিদে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচ সপ্তাহ আগে তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন। এখন পর্যন্ত তার মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের হেলমেট পরে তার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে ঢুকে একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা অকার্যকর করে এবং পরে একটি স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রসিকিউশনের দাবি, সেই ব্যক্তি ছিলেন ডেভিড ক্নেজেভিচ। তারা জানায়, আনার নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন আগে ক্নেজেভিচ মায়ামি থেকে তুরস্কে যান, সেখান থেকে তার নিজ দেশ সার্বিয়ায় যান এবং একটি গাড়ি ভাড়া নেন। আনা নিখোঁজ হওয়ার দিন ক্নেজেভিচকে মাদ্রিদের একটি হার্ডওয়্যার স্টোরে দেখা গেছে এবং তার ভাড়ার গাড়ি ফেরত দেওয়ার সময় দেখা যায়, সেটি প্রায় ৭,৭০০ কিলোমিটার (৪,৮০০ মাইল) চালানো হয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, এই দম্পতির মধ্যে ১৩ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান হচ্ছিল এবং তারা কয়েক মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে আইনি দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। তবে ক্নেজেভিচের আইনজীবীর দাবি, তাদের বিচ্ছেদ ছিল “বন্ধুসুলভ” এবং আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান হচ্ছিল। এখন এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যু তদন্তে নতুন মোড় এনেছে, এবং আনা ক্নেজেভিচের নিখোঁজ রহস্য এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম