আমেরিকা

শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য মার্কিন আশ্রয়, অন্য শরণার্থীরা অনিশ্চয়তায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি ৫৯ জন সাদা দক্ষিণ আফ্রিকান, প্রধানত আফ্রিকানারদের, শরণার্থী হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদেরকে "জাতিগত বৈষম্যের শিকার" বলে দাবি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও এই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য বহু শরণার্থী, যারা বহু বছর ধরে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন, এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, কঙ্গোর পাসিতো নামের এক শরণার্থী, যিনি তার পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় ছিলেন, হঠাৎ করে তার ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পান। তিনি বলেন, "আমরা সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছি, নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমরা কোথায় যাব?" ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি একটি বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে যখন আফগানিস্তান, হাইতি, ইউক্রেন এবং অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর শরণার্থীদের জন্য মার্কিন আশ্রয় নীতিতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, "যারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তারা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধানে অংশ নিতে চায় না। তারা কেবল নিজেদের সুবিধার কথা ভাবছে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিজেদের করতেই হবে। পালিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়।" এই পরিস্থিতিতে, অনেক শরণার্থী ও মানবাধিকার কর্মী মার্কিন সরকারের এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তাদের দাবি, শরণার্থী নীতিতে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সকল শরণার্থী সমান সুযোগ পান।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম