আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত কোটি মানুষ, ঘরে থাকার পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কোটি কোটি মানুষকে ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (National Weather Service - NWS)। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মোট ১৬৮ মিলিয়ন (১৬ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন নাগরিক তাপপ্রবাহজনিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সতর্ক করে বলেছেন, “তাপমাত্রা নিউ ইয়র্কে চরম আবহাওয়াজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।” তিনি সাধারণ নাগরিকদের প্রতিবেশীদের, বিশেষ করে প্রবীণ ও অসুস্থদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান। নিউ ইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানায়, “এই চরম গরম বিপজ্জনক ও জীবনঘাতী হতে পারে। যতটা সম্ভব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে অবস্থান করুন।” মঙ্গলবার সকালের ব্যস্ত সময়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে কিছু সাবওয়ে লাইন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরমের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। সাবওয়েতে থাকা যাত্রী নাটালি হেনরি বলেন, “শ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সবাই এত ঘনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যে পরিস্থিতি অসহনীয় ছিল।” এই পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সুইমিং পুলগুলোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কুলিং সেন্টার চালু করা হয়েছে, যাতে মানুষ কিছুটা প্রশান্তি পায়। নিউ ইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকালে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছুঁয়েছে, যা জুলাই মাসের এই দিনে রেকর্ড তাপমাত্রা। তবে এই রেকর্ড ৩ জুলাই ১৯৬৬ সালে লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে পরিমাপকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে কম। এদিকে, ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে রোববার ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের আগের রেকর্ড ৯৯ ডিগ্রিকে অতিক্রম করেছে। তাপপ্রবাহ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, কানাডার বহু অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা, প্রেইরি অঞ্চল, অন্টারিও এবং পূর্ব উপকূলে নোভা স্কোশিয়ায় জারি করা হয়েছে হিট ওয়ার্নিং। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঝড়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম