আমেরিকা

শিশু নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত টেক্সাসের খ্যাতনামা পাদ্রী

আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের খ্যাতনামা খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও গেটওয়ে চার্চের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট মরিস (৬৪) শিশু নির্যাতনের দায় স্বীকার করেছেন। ওকলাহোমার এক আদালতে তিনি ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। বিচারক তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিলেও চুক্তির ভিত্তিতে মরিস মাত্র ৬ মাস জেলে কাটাবেন, বাকিটা সময় থাকবেন প্রবেশনে। এছাড়া তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে এবং ভুক্তভোগীকে দিতে হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ। ১৯৮২ সালে মরিস ওকলাহোমার হোমিনি শহরে ভ্রাম্যমাণ খ্রিষ্টান প্রচারক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং তখনকার মাত্র ১২ বছরের কিশোরী সিন্ডি ক্লেমিশায়ার-এর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সেই সময় চার বছর ধরে তিনি শিশুটিকে নিপীড়ন করেন বলে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্লেমিশায়ার অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “এটা আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। আমি কোনো ‘যুবতী’ ছিলাম না, আমি ছিলাম শিশু। ১২ বছরের শিশুর সম্মতি বলে কিছু নেই।” তিনি জানান, ১৯৮৭ সালে প্রথম বাবা-মা ও চার্চ নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কেউ পুলিশে খবর দেয়নি। ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলার পর মরিস গেটওয়ে চার্চ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। চার্চটি বর্তমানে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নয়টি শাখা নিয়ে প্রায় এক লাখ সদস্যের সমাবেশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে তার আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা ও ইভানজেলিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম