আমেরিকা

শার্লটে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে দুই দিনে ১৩০ জন গ্রেপ্তার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে দুই দিনে ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল এজেন্টরা। এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর সহকারী সচিব ট্রিশা ম্যাকলাফলিন বিবিসিকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে অনেকেই অপরাধী ও গ্যাং সদস্য। তবে স্থানীয় নেতারা বলছেন, এ অভিযান শহরের মানুষের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে। DHS আরও জানিয়েছে, এক মার্কিন নাগরিক একজন কর্মকর্তার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে আহত করেছে। জনসংখ্যার হিসেবে শার্লটে লস অ্যাঞ্জেলেসের চার ভাগের এক ভাগ এবং শিকাগোর তিন ভাগের এক ভাগ। এই দুই শহর আগেও বড় ধরনের অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্য ছিল। বর্ডার কর্মকর্তা গ্রেগ বোভিনো জানান, শনিবার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিকাগোতে অভিবাসন অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত বোভিনো সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অপারেশন শার্লটস ওয়েব” নামে এ অভিযান নিয়ে পোস্ট করছেন। নামটি বিখ্যাত শিশুতোষ বই Charlotte’s Web থেকে নেওয়া। DHS-এর বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে দুইজন গ্যাং সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও সরকারি নথি জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধের রায় রয়েছে। শার্লটের বহু বাসিন্দা এ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেন। শহরের ডেমোক্র্যাট মেয়র ভায় লাইলস বলেন, সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের “হুমকির মুখে” ও “অস্থির” বোধ করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি যে ভিডিওগুলো দেখেছি, তা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। শার্লটের যারা ভীত ও উদ্বিগ্ন—আপনারা একা নন। আপনাদের পাশে শহর রয়েছে।” নর্থ ক্যারোলিনার ডেমোক্র্যাট গভর্নর জোশ স্টেইনও অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা মুখোশধারী, ভারী অস্ত্রসজ্জিত এজেন্টদের দেখেছি, যারা চিহ্নহীন গাড়িতে করে এসে ত্বকের রঙ দেখে মার্কিন নাগরিকদের নিশানা করছে, বর্ণবৈষম্য করছে এবং পার্কিং লট থেকে এলোমেলো মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের নিরাপদ করছে না।” অভিবাসন অভিযানের ভয়ে শহরের বহু অভিবাসী ঘর থেকে বের হননি—যেমনটি অন্য শহরেও দেখা গেছে। রবিবার DHS একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় একটি সাদা ভ্যান পুলিশের গাড়িকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করছে। তারা জানায়, অভিযানের সময় ভ্যানটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসে এবং পরে পুলিশ গাড়িতে ধাক্কা দেয়। পরে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। DHS এখনো জানায়নি এ অভিযান কতদিন চলবে। শিকাগোর অভিযান সেপ্টেম্বর থেকে এখনো চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন দমন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর পাশাপাশি উপশহর ও ছোট কমিউনিটিগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিবিসির মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম