আমেরিকা

‘শিগগিরই’ হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি “নিকট ভবিষ্যতে” হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে কোনো অভিযানের প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন—“শুনতে ভালো লাগছে”। এর আগে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বুধবার জানান, ওই অভিযানে নিহতের সংখ্যা প্রথমে জানানো তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি—১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো আগেই জানিয়েছিল, অভিযানে ২৩ জন ভেনেজুয়েলান ও ৩২ জন কিউবান সেনা নিহত হন। ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেত্রো মাদক পরিস্থিতি ও অন্যান্য মতবিরোধ নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের “ভদ্র ও সংযত ভঙ্গি” তিনি প্রশংসা করেন। তবে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প পেত্রোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “নিজেকে সামলে চলুন”—যা নিয়ে তখন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কলম্বিয়া অঞ্চলটির মাদক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, বিশেষ করে কোকেন উৎপাদনে দেশটির বড় ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য তেল মজুত আছে এবং সোনা, রূপা, পান্না, প্লাটিনাম ও কয়লার বড় উৎপাদক হিসেবেও পরিচিত। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলের বিক্রি “অনির্দিষ্টকালের জন্য” যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যখন দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থাকা বৈশ্বিক বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রস্তুতি চলছে। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, পেত্রো “একজন অসুস্থ মানুষ, যে কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “সে আর বেশি দিন এটা করতে পারবে না।” এর জবাবে পেত্রো সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে দেশটি “অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “যদি আপনি এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আটক করেন, যাকে আমার জনগণের বড় অংশ সম্মান করে, তবে আপনি জনগণের জাগুয়ারকে মুক্ত করে দেবেন।” তবে বুধবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, পেত্রোর সঙ্গে তার কথোপকথন ছিল “একটি বড় সম্মান।” তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফরের আয়োজন করবেন। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তিনি মাদক পাচার দমনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তার শাসনামলে কার্টেলগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ২০২২ সালে পেত্রো ক্ষমতায় আসার পর কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন “কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে”, যা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। পেত্রো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি “দশকের পর দশক ধরে” মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং তার প্রশাসন কোকা চাষ বৃদ্ধির লাগাম টেনেছে। এদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরোকে অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে “অভূতপূর্ব কলঙ্ক”। তবে তিনি যোগ করেন, “সব পক্ষের উপকার হয়—এমন জ্বালানি সম্পর্কের জন্য ভেনেজুয়েলা উন্মুক্ত।”   এলএবাংলাটাইমস/ওএম