আমেরিকা

পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুজন

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এক গুলির ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। আহত একজন পুরুষ ও একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৯ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় রাত ১০টা ১৯ মিনিট) এই ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, তাদের সদস্যরা সরাসরি এই অভিযানে জড়িত ছিলেন না। গুলির খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার একটি গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে ট্রাফিক স্টপে থামানোর সময় এই ঘটনা ঘটে। ডিএইচএসের দাবি, ওই ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে ফেডারেল এজেন্টদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির যাত্রী ছিলেন এক ভেনেজুয়েলার অবৈধ অভিবাসী, যিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং সম্প্রতি পোর্টল্যান্ডে সংঘটিত একটি গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এজেন্টরা নিজেদের পরিচয় দিলে চালক গাড়িটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এজেন্টদের ওপর চালানোর চেষ্টা করেন। জীবননাশের আশঙ্কায় এক এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়েন। এরপর চালক ও যাত্রী গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ব্লক দূরে পাওয়া যায়। পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে টুর্নিকেট ব্যবহার করেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডেকে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহত ওই নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রী হতে পারেন। তবে পুলিশ এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। পোর্টল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান ভাসকেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত রয়েছেন যেন সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, সব প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন এর আগের দিন মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পোর্টল্যান্ড পুলিশ প্রধান বব ডে বলেন, “আমরা এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। মিনিয়াপলিসের ঘটনার পর মানুষের মধ্যে যে উত্তেজনা ও আবেগ কাজ করছে, আমরা তা বুঝি। তবে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি।” তিনি জানান, হ্যাজেলউড এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এফবিআই। পোর্টল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট মেয়র কিথ উইলসন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহরে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)–এর সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “ফেডারেল সরকার কী বলছে আমরা জানি। কিন্তু তাদের কথার ওপর নিঃশর্ত বিশ্বাস রাখার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রশাসন আমাদের বিভক্ত করতে চাইছে। পোর্টল্যান্ডবাসীর উচিত এই সময়ে একে অপরের পাশে থাকা।” উল্লেখ্য, পোর্টল্যান্ড অতীতেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের কেন্দ্র ছিল। বুধবার রাতে এক বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর লিউ ফ্রেডেরিক বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তদন্তে যুক্ত না করলে সাধারণ মানুষ তদন্তের ফলাফলকে নিরপেক্ষ বলে বিশ্বাস করবে না।

তিনি বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। দুঃখজনক হলেও, এই ধরনের ঘটনা আগে থেকেই আশঙ্কা করা যাচ্ছিল।”

এলএবাংলাটাইমস/ওএম