প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বলরুম নির্মাণের জন্য হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং সংস্কারের বদলে ভেঙে ফেলা অর্থনৈতিকভাবে বেশি সাশ্রয়ী ছিল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতা এতটাই গুরুতর ছিল যে সংস্কারের চেয়ে পুনর্নির্মাণই ছিল সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত।
হোয়াইট হাউস অফিস অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক জশ ফিশার এক পরিকল্পনা কমিশনের বৈঠকে জানান, ইস্ট উইংয়ের নকশা ও নির্মাণে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। তার ভাষায়, ভবনটিতে দীর্ঘদিনের পানির চুইয়ে পড়া, দ্রুত ক্ষয়, এবং ছত্রাক বা মোল্ডের সংক্রমণ দেখা গেছে, যা এটিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলেছিল।
গত অক্টোবরে ইস্ট উইং ভেঙে ফেলা হয়, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বহু মিলিয়ন ডলারের নতুন বলরুম নির্মাণ করা যায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের অর্থ সরকারি তহবিল থেকে নয়, বরং বেসরকারি দাতাদের মাধ্যমে আসছে। তবে নতুন হিসাব অনুযায়ী, বলরুম নির্মাণের ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রাথমিক অনুমানের দ্বিগুণ।
ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের (এনসিপিসি) এক বৈঠকে কর্মকর্তারা জানান, এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইস্ট উইং ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কম খরচের ও কার্যকর সমাধান।
তবে ওয়াশিংটন ডিসি সিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ডেমোক্র্যাট নেতা ফিল মেন্ডেলসন প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পুরো প্রকল্পটি ইস্ট উইং ভাঙার আগেই কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। জবাবে জশ ফিশার বলেন, বলরুম নির্মাণ সংক্রান্ত কিছু বিষয় ‘অতি গোপনীয়’ হওয়ায় সব তথ্য আগেই প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না।
কমিশনের চেয়ারম্যান উইলিয়াম শার্ফ, যিনি ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত, বলেন যে সাধারণত কমিশনের এখতিয়ারে কোনো প্রকল্পের প্রাথমিক সাইট কাজ বা ভবন ভাঙার বিষয় পড়ে না, এমনকি তা হোয়াইট হাউসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
যদিও হোয়াইট হাউস ও আশপাশের পার্কগুলো ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের অধীনে পরিচালিত, তবু প্রেসিডেন্টের কাছে ভবন সংস্কার ও পরিবর্তনের ব্যাপারে বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে।
নতুন বলরুম প্রকল্পের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট উইংয়েও একটি অতিরিক্ত তলা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়েস্ট উইংয়ে প্রেসিডেন্টের স্টাফদের অফিস, ওভাল অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রগুলো অবস্থিত।
প্রকল্পের স্থপতি শালোম বারানেস জানান, নতুন সংযোজনের ফলে ভবনের সামগ্রিক নকশায় সামঞ্জস্য আসবে। তিনি বলেন, বলরুমটির আয়তন হবে প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট এবং সেখানে এক হাজার অতিথি বসে আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া থাকবে দুটি প্রবেশ লবি, একটি বাণিজ্যিক রান্নাঘর, ফার্স্ট লেডির জন্য একটি অফিস এবং একটি সিনেমা হল।
নির্মাণ শেষ হলে নতুন বলরুমটি আয়তনে বর্তমান হোয়াইট হাউসের মূল অংশের চেয়েও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানায়, আগের একজন স্থপতি বলরুমের বিশাল আকার নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন, কারণ এটি মূল হোয়াইট হাউসকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন।
বারানেস জানান, দুটি তলা ও বলরুমসহ নতুন ইস্ট উইংয়ের মোট আয়তন হবে প্রায় ৮৯ হাজার বর্গফুট। এতে একটি দুইতলা কলোনেড থাকবে, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমকে নতুন বলরুমের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের বসবাস ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য ব্যবহৃত মূল ভবনের আয়তন প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট এবং ওভাল অফিসসহ ওয়েস্ট উইংয়ের আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন গত ডিসেম্বর হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, ঐতিহাসিক ইস্ট উইং ভাঙার আগে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রকল্পের নকশা দাখিল করা উচিত ছিল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সব বিতর্কের মধ্যেও বলরুম প্রকল্পটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ জানুয়ারি ২০২৯-এর মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম