আমেরিকা

মিনিয়াপোলিসে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ, বহুজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE)-এর বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। এক নারীকে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে হওয়া এসব বিক্ষোভে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন, যখন তাঁর দিকে বরফের একটি টুকরো ছুড়ে মারা হয়। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নামের এক নারীর মৃত্যুর পর। গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর—অস্টিন, সিয়াটল, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ—আইসিইবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার আরও বড় আকারের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে কাজ করেছেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত নারী কোনোভাবেই হুমকি সৃষ্টি করেননি। তীব্র শীত উপেক্ষা করেও শনিবার মিনিয়াপোলিসের পাউডারহর্ন পার্ক থেকে শুরু হওয়া “ICE Out of Minnesota” সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মিনিয়াপোলিস পুলিশ জানিয়েছে, এতে “দশ হাজারের বেশি মানুষ” অংশ নেয়। শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই বিক্ষোভকে “শান্তিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তবে শুক্রবার রাতে শহরের ক্যানোপি হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, সেখানে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয় এবং কিছু ব্যক্তি হোটেলের পেছনের গলি দিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা উজ্জ্বল আলো ফেলছে, বাঁশি বাজাচ্ছে ও ঢোল পেটাচ্ছে। পুলিশ জানায়, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশ ও পুলিশের গাড়ির দিকে বরফ, তুষার ও পাথর ছুড়ে মারে। যদিও এতে কোনো গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি। আরেকটি হোটেলেও ভাঙচুর ও গ্রাফিতির ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ফ্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রশংসা করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে বা অন্যদের ঝুঁকির মুখে ফেলবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা। মিনেসোটায় আইসিই-এর উপস্থিতি নিয়ে বহুদিন ধরেই জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। ও’হারা জানান, আইসিই-এর কার্যক্রম নিয়ে প্রতিদিন তার দপ্তরে ডজনের বেশি ফোন কল আসছে। এদিকে এই গুলির ঘটনা রাজনৈতিকভাবে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলছে। রোববার মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম সিএনএনকে বলেন, রেনি গুড “ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে” জড়িত ছিলেন এবং নিজের গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই মিনিয়াপোলিসের মেয়র ফ্রে একই চ্যানেলে বলেন, “যে কেউ দেখলেই বুঝবে, এই নারী কোনো ঘরোয়া সন্ত্রাসী ছিলেন না।” তিনি জানান, গুড মূলত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর জন্য গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন। মেয়র আরও বলেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইসিই এজেন্টদের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। শনিবার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের তিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান—ইলহান ওমর, কেলি মরিসন ও অ্যাঞ্জি ক্রেইগ—মিনিয়াপোলিসের একটি আইসিই স্থাপনা পরিদর্শনের চেষ্টা করেন। প্রথমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তাদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। তারা অভিযোগ করেন, আইসিই ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেস সদস্যদের তদারকি দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে। ইলহান ওমর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “আইসিই স্থাপনাগুলোতে কী ঘটছে, তা জানার অধিকার জনগণের আছে।” ৮ জানুয়ারি জারি করা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক নীতিমালায় বলা হয়েছে, আইসিই স্থাপনা পরিদর্শনে কংগ্রেস সদস্যদের সাত দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই নীতিমালা শনিবার ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিই এজেন্টরা রাস্তার মাঝখানে থাকা একটি গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে চালককে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গাড়িটি চলতে শুরু করলে সামনের দিকে থাকা এক এজেন্ট বন্দুক তাক করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে গাড়িটি সড়কের পাশে ধাক্কা খায়। নিহত রেনি গুডের স্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, তারা দুজনই প্রতিবেশীদের সমর্থনে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের স্থলে গিয়েছিলেন। যে এজেন্ট গুলি চালান, তাঁর নাম জনাথন রস। তিনি একজন অভিজ্ঞ আইসিই কর্মকর্তা এবং এর আগে দায়িত্ব পালনকালে গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার তদন্ত করছে এফবিআই। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পৃথকভাবে রাজ্য পর্যায়ের তদন্ত শুরু করবে, কারণ ফেডারেল তদন্তে তাদের যুক্ত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিষয়টি পুরোপুরি ফেডারেল এখতিয়ারভুক্ত।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম