আমেরিকা

ট্রাম্প–শি বৈঠক শেষ: অত্যন্ত সফল আলোচনা, তবে বড় কোনো চুক্তির স্পষ্ট ঘোষণা নেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেইজিং ত্যাগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল অত্যন্ত সফল এবং উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই বড় কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি, বিমান পরিবহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা। সফরে তাকে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা, সম্মাননা কুচকাওয়াজ, নৈশভোজ এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিশেষ আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। এই আন্তরিক আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ট্রাম্প শি জিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন, শি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, চীন বোয়িং থেকে ২০০টি যাত্রীবাহী বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ৭৫০টি বিমান কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন কিনবে, যা আমেরিকান কৃষকদের জন্য বড় সুখবর হবে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এসব ক্রয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি নতুন যৌথ কাঠামো গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। সফরের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। ইলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ছিলেন। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী। ট্রাম্প জানান, দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা নিয়েও আলোচনা করেছেন। বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। শি জিনপিং মার্কিন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে আলোচনায় সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিং প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে এবং উত্তেজনা কমাতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ট্রাম্প বৈঠককে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন, বাস্তবে এখনো বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই দেশের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে প্রকৃত বড় সমঝোতা তখনই হতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম