আমেরিকা

নিউমোনিয়া ও সেপসিসে মারা গেলেন নাসকার চ্যাম্পিয়ন কাইল বুশ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোটর রেসিং প্রতিযোগিতা নাসকারের তারকা চালক Kyle Busch গুরুতর নিউমোনিয়া ও সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিউমোনিয়া দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে সেপসিসে পরিণত হয়, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ৪১ বছর বয়সী বুশ বৃহস্পতিবার হঠাৎ মারা যান। এর আগে তার পরিবার জানিয়েছিল, তিনি “গুরুতর অসুস্থতায়” ভুগছিলেন। চিকিৎসা পরীক্ষায় দেখা যায়, সংক্রমণজনিত জটিলতা খুব দ্রুত পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। নাসকার কর্তৃপক্ষ কাইল বুশকে “এক প্রজন্মে একবার জন্ম নেওয়া বিরল প্রতিভা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি নাসকার কাপ সিরিজে দুটি শিরোপা এবং মোট ৬৩টি রেস জিতেছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি নাসকারের শীর্ষ বিভাগে নিজের ২২তম মৌসুমে অংশ নিচ্ছিলেন। এই সপ্তাহান্তে নর্থ ক্যারোলিনার Charlotte Motor Speedway-এ অনুষ্ঠিতব্য বিখ্যাত কোকা-কোলা ৬০০ রেসে তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কাইল বুশের পরিবারে রয়েছেন তার বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই ছোট সন্তান। নাসকারের প্রধান নির্বাহী Steve O'Donnell জানিয়েছেন, বুশ চাইতেন রেস চালিয়ে যাক সবাই। তাই তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত রেসগুলো অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রেসের আগে বুশের ব্যবহৃত ট্রাক ও তার বিখ্যাত নম্বর প্রদর্শন করা হয়। স্টিভ ও’ডনেল বলেন, “কাইল বুশ নাসকারে যা যা করা সম্ভব, তার প্রায় সবই করেছেন।” তিনি বুশকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপ্রবণ, সাহসী এবং “সবসময় দারুণ মন্তব্যের জন্য পরিচিত” ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। রেসিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন বুশ। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছিলেন, যা আইভিএফ ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করত। রেসিং দুনিয়ায় “রাউডি” নামে পরিচিত কাইল বুশ তার আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের জন্যও সমান জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন অনেক বর্তমান ও সাবেক রেসার। সাবেক সতীর্থ Denny Hamlin সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই খবর বিশ্বাস করতে পারছি না। এই সময়ে আমাদের তার পরিবারের পাশে থাকতে হবে। আমরা তোমাকে ভালোবাসি, কেবি।” দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে নাসকারের শীর্ষ তিন সিরিজ মিলিয়ে কাইল বুশ মোট ২৩৪টি রেস জিতেছিলেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। সেপসিস কী? সেপসিস হলো শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, যা জীবনহানির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনও কখনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। এটিই সেপসিস। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে বেশি হয়, তবে যেকোনো ধরনের সংক্রমণ থেকেও হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে এটি “সেপ্টিক শক”-এ পরিণত হতে পারে, যা মারাত্মক প্রাণঘাতী। সেপসিসের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বিভ্রান্তি, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, তীব্র শরীর ব্যথা এবং ত্বকের রঙ পরিবর্তন। শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো বোঝা আরও কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশটিতে অন্তত ১৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৮ হাজারের বেশি শিশু সেপসিসে আক্রান্ত হয়।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম