মালদ্বীপের পানির নিচের একটি গুহায় ডাইভিং করতে গিয়ে নিহত চার ইতালীয় ডাইভারের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে মরদেহগুলো ইতালিতে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে মালদ্বীপ সরকার।
চারটি কফিন ইতালির মিলানের মালপেনসা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেগুলো মর্গে নেওয়া হয়। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা লা প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে ময়নাতদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১৪ মে পাঁচ ইতালীয় ডাইভার মালদ্বীপের ভাভু অ্যাটলে প্রায় ৫০ মিটার গভীরে একটি গুহা অনুসন্ধানে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে তাদের ইতালীয় ডাইভিং প্রশিক্ষকের মরদেহ গুহার বাইরে উদ্ধার করা হয় এবং সেটি আগেই দেশে পাঠানো হয়েছে।
চার ডাইভারের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে। এক পর্যায়ে মালদ্বীপের সামরিক ডাইভার মোহাম্মদ মাহুদি, যিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। এরপর অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পরে ফিনল্যান্ডের তিন বিশেষজ্ঞ গভীর সমুদ্র ও গুহা ডাইভার অভিযানে যোগ দেন। তারা গত সপ্তাহে প্রায় ৬০ মিটার গভীরে গুহার সবচেয়ে ভেতরের অংশ থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেন। অথচ মালদ্বীপে বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের অনুমোদিত সীমা মাত্র ৩০ মিটার।
মালদ্বীপ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ হুসেইন শরীফ জানিয়েছেন, দুটি তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি পাঁচ ডাইভারের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে এবং অন্যটি সামরিক ডাইভার মোহাম্মদ মাহুদির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে।
তিনি আরও জানান, ইতালি মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের ফলাফল মালদ্বীপের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে সম্মত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক মনিকা মন্টেফালকোনে, তার মেয়ে জর্জিয়া সোম্মাকাল, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি, গবেষক মুরিয়েল ওডেনিনো এবং ডাইভিং প্রশিক্ষক জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি।
সরকারি মুখপাত্র আহমেদ শাম আগেই জানিয়েছিলেন, চারটি মরদেহ “প্রায় একসঙ্গেই” পাওয়া গেছে।
মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাইভারদের কাছে অনুমতি থাকলেও তারা ঠিক কোন গুহায় অভিযান চালাচ্ছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ আগে থেকে জানত না। এছাড়া নিহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের নাম গবেষক তালিকায় ছিল না, যা আগে জমা দেওয়া হয়েছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম