বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস পরিস্থিতি “এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল” রয়েছে। তবে সংস্থাটি এখনো সতর্ক অবস্থায় আছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় টেড্রোস জানান, এখন পর্যন্ত হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ মে’র পর আর কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আক্রান্ত যাত্রীরা এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি ক্রুজ জাহাজে ওঠার পর এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
টেড্রোস বলেন, “জাহাজের সব যাত্রী ও ক্রু এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি হান্টাভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইন মোকাবিলায় চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়নের জন্য বিশেষ জরুরি ঘোষণা স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপ গবেষণা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমের বাধা কমাতে সহায়তা করবে। দক্ষিণ আটলান্টিকের ক্রুজ জাহাজ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক সংক্রমণ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।”
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি একটি পাখি পর্যবেক্ষণ সফরে অংশ নিয়েছিলেন। সফরের সময় তারা একটি আবর্জনার স্তূপ এলাকায় গিয়েছিলেন, যেখানে সংক্রমিত ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দম্পতি ও এক জার্মান নাগরিক অ্যান্ডিস স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামবে। এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা ত্যাগ করেছিল।
অন্যদিকে ক্রুজ জাহাজে হান্টাভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ১৭ জন মার্কিন নাগরিক ও এক ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা ও জর্জিয়ায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অধিকাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে একজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হলেও তার কোনো উপসর্গ ছিল না। আরেকজনের হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত অ্যান্ডিস স্ট্রেইনের কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, এই পরিস্থিতি ২০২০ সালের করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর সময়ের মতো নয়। কারণ হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ পদ্ধতি ও ইনকিউবেশন সময় কোভিড-১৯ থেকে ভিন্ন।
তবে একই সময়ে কঙ্গোতে ইবোলা বান্ডিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সেখানে ৫০০-র বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম