মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন গোপনীয়তা চুক্তি বা এনডিএ (নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট) চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তর ওপিএম একটি খসড়া চুক্তি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস হলে আন্তঃসংস্থার খোলামেলা মতবিনিময় বাধাগ্রস্ত হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের আগেই কিছু তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়েছিল, যা মার্কিন সেনাদের জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই এনডিএ সাধারণ গোপনীয়তা চুক্তির চেয়ে অনেক বিস্তৃত। ফলে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আশঙ্কা, এতে কর্মীদের বাকস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওপিএম জানিয়েছে, এই চুক্তি কর্মীদের বক্তব্য বা তথ্য প্রকাশের অধিকার নতুনভাবে সীমিত করছে না। বরং আইনসম্মতভাবে তথ্য প্রকাশের অধিকার, বিশেষ করে হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা, বহাল থাকবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, এই ফরমের উদ্দেশ্য হলো কর্মীদের মনে করিয়ে দেওয়া যে, তারা যেন গোপন বা ব্যক্তিগত সরকারি তথ্য সুরক্ষিত রাখার বর্তমান আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলেন।
এই প্রস্তাব নিয়ে আগামী ৩০ দিন জনমত নেওয়া হবে। এরপর এটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেডারেল কর্মী ইউনিয়ন এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সভাপতি এভারেট কেলি দাবি করেন, প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সব সংস্থার কর্মীদের জন্য এই এনডিএ বাধ্যতামূলক করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, কর্মীরা যদি চুক্তিতে সই না করেন, তাহলে তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
কেলির ভাষায়, “প্রশাসন ফেডারেল কর্মীদের মুখ বন্ধ করতে চায় এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে নিজেদের অনুগত লোক বসাতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেই কেউ তার সাংবিধানিক বাকস্বাধীনতার অধিকার হারায় না। জনগণেরও অধিকার আছে সরকারের অপব্যবহার সম্পর্কে জানার।”
ওপিএম কয়েকটি তথ্য ফাঁসের ঘটনার উদাহরণও দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের আগাম তথ্য পেয়েছিল।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক জো কান এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য ছিল না এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে তারা কোনো সংবাদ প্রকাশ আটকে রাখেনি।
ওপিএম আরও জানায়, চলতি বছর এক ফেডারেল কর্মী প্রায় ৪ হাজার ৫০০ আইসিই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করেছিলেন। এর মধ্যে ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ইমেইল ছিল। এতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক অ্যামি শ্মিটজ বলেন, সরকারি কর্মীদের এনডিএ সই করানো নতুন কিছু নয়। তবে সাধারণত এটি গোপন তথ্য, গবেষণা বা নির্দিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে।
তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি অনেক বেশি বিস্তৃত হওয়ায় এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর আইন অধ্যাপক অরলি লোবেল বলেন, এই ধরনের বিস্তৃত চুক্তি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিতে পারে। এমনকি চাকরি ছাড়ার পরও তারা নিজেদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ভয় পেতে পারেন।
তার ভাষায়, “এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক, অপচয়মূলক বা অদক্ষ আচরণ নিয়ে কর্মীরা কথা বলতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে কর্মীদের স্বাধীনভাবে অন্য চাকরিতে যাওয়ার সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম